অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক :    ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, করপোরেট গভর্ন্যান্সে ব্যত্যয়, নিয়োগে অনিয়ম এবং শেয়ার লেনদেনসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের অনুসন্ধান (এনকোয়ারি) কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, কমিটিকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

সোমবার (১০ আগস্ট) বিএসইসির ইনস্পেকশন, এনকোয়ারি অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ...

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, করপোরেট গভর্ন্যান্সে ব্যত্যয়, নিয়োগে অনিয়ম এবং শেয়ার লেনদেনসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের অনুসন্ধান (এনকোয়ারি) কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, কমিটিকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

সোমবার (১০ আগস্ট) বিএসইসির ইনস্পেকশন, এনকোয়ারি অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ধারা ২১ এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২০-এর বিধি ১৭ অনুযায়ী অনুসন্ধানের এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে রয়েছেন বিএসইসির পরিচালক এ.এস.এম. মাহমুদুল হাসান, অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ শামসুর রহমান এবং সহকারী পরিচালক মো. মতিউর রহমান।

বিএসইসির আদেশে বলা হয়েছে, দেশের শেয়ারবাজারের সুষ্ঠু প্রশাসন নিশ্চিত করা এবং বৃহত্তর পুঁজিবাজারের স্বার্থে ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান পরিচালনা করা প্রয়োজন।

যেসব অভিযোগ তদন্ত হবে

কমিটির কার্যপরিধি (টার্মস অব রেফারেন্স) অনুযায়ী, ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার ১৪১ নম্বর সদস্য ডন সিকিউরিটিজ কর্তৃক উত্থাপিত আর্থিক অনিয়ম, করপোরেট গভর্ন্যান্সের ঘাটতি এবং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করা হবে।

এ ছাড়া অনুসন্ধানে অন্তর্ভুক্ত থাকবে—

ডিএসইর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও), জেনারেল ম্যানেজারসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের শেয়ার লেনদেনে সম্পৃক্ততার অভিযোগ;

তাদের বা তাদের পরিবারের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট অন্য কোনো ব্যবসায় সম্পৃক্ততা ও সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত;

রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স কমিটি (আরএসি), রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন (আরএডি), নমিনেশন অ্যান্ড রেমুনারেশন কমিটি (এনআরসি) এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ভূমিকা;

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, পুনর্নিয়োগ, উপদেষ্টা নিয়োগ এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া;

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ধারা ১৯ অনুযায়ী গোপনীয়তা রক্ষার বিধান (সিক্রেসি ক্লজ) যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না।

এ ছাড়া প্রয়োজন মনে করলে কমিটি সংশ্লিষ্ট অন্য যেকোনো বিষয়ও তদন্ত করতে পারবে।

‘স্বার্থের সংঘাত থাকলে বাজারের জন্য বড় ঝুঁকি’

এ বিষয়ে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন বলেন, ডিএসইর কোনো কর্মকর্তা শেয়ারবাজারে লেনদেনের সঙ্গে জড়িত থাকলে সেটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তার ভাষায়, “ডিএসইর কেউ যদি শেয়ার লেনদেনে সম্পৃক্ত থাকেন, তাহলে সেটি শেয়ারবাজারের জন্য বড় সমস্যা। একই সঙ্গে নিয়োগগুলো সঠিকভাবে হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ আগের সময়ে অনেক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি বিএসইসিতেও রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।”

বিএসইসির নির্দেশ অনুযায়ী, অনুসন্ধান কমিটিকে আদেশ জারির তারিখ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।