খেলাধুলা ডেস্ক :   ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকল। দিনের শুরুতে টস, আর দিনের শেষে স্কোরবোর্ডে এমন এক চিত্র—যা খুব কমই দেখা যায় অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করার পর বাংলাদেশ দিন শেষ করেছে ১ উইকেটে ৯৬ রান তুলে।

এমন পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোনো সফরকারী দল শেষ কবে প্রথম দিনেই এতটা দাপট দেখিয়েছিল?

এই শতাব্দীর রেকর্ড ঘাঁটলে এমন কয়েকটি উদাহরণ মিললেও ...

খেলাধুলা ডেস্ক : ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকল। দিনের শুরুতে টস, আর দিনের শেষে স্কোরবোর্ডে এমন এক চিত্র—যা খুব কমই দেখা যায় অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করার পর বাংলাদেশ দিন শেষ করেছে ১ উইকেটে ৯৬ রান তুলে।

এমন পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোনো সফরকারী দল শেষ কবে প্রথম দিনেই এতটা দাপট দেখিয়েছিল?

এই শতাব্দীর রেকর্ড ঘাঁটলে এমন কয়েকটি উদাহরণ মিললেও সংখ্যাটা খুবই সীমিত। বিশেষ করে প্রথম দিনেই অস্ট্রেলিয়াকে কম রানে গুটিয়ে দিয়ে ব্যাট হাতেও শক্ত অবস্থানে দিন শেষ করার ঘটনা বিরল।

সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ ২০১০ সালের বক্সিং ডে টেস্ট। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টসে জিতে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল ইংল্যান্ড। ক্রিস ট্রেমলেট ও জেমস অ্যান্ডারসনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে স্বাগতিকরা মাত্র ৯৮ রানে অলআউট হয়ে যায়, যা মেলবোর্নে তাদের অন্যতম সর্বনিম্ন স্কোর।

জবাবে ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস ও অ্যালিস্টার কুক প্রথম দিনই কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৫৭ রান যোগ করেন। শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচে ইনিংস ও ১৫৭ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় ইংল্যান্ড।

বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থানের সঙ্গে সেই ম্যাচের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। দুই ক্ষেত্রেই অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে এবং সফরকারী দল প্রথম দিন থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।

এ ধরনের আরও দুটি নজির রয়েছে। ২০১৬ সালে হোবার্ট টেস্টে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে মাত্র ৮৫ রানে গুটিয়ে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম দিনের খেলা শেষ করে ৫ উইকেটে ১৭১ রান তুলে এবং পরে ইনিংস ও ৮০ রানের জয় পায়।

এ ছাড়া ২০২০ সালের মেলবোর্ন টেস্টে ভারত অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৫ রানে অলআউট করে। প্রথম দিন শেষে ভারতের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ৩৬ রান। পরে সফরকারীরা ম্যাচটি ৮ উইকেটে জিতে সিরিজে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়।

বাংলাদেশের সামনে এখন সেই ইতিহাস অনুসরণের সুযোগ। প্রথম দিনের দাপুটে পারফরম্যান্স অবশ্যই বড় আত্মবিশ্বাস দেবে, তবে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হবে পরের কয়েক দিনের লড়াইয়ে। অতীতের উদাহরণ বলছে, যারা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এমন স্বপ্নের শুরু করেছে, তাদের বেশির ভাগই শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে। বাংলাদেশের লক্ষ্যও এখন সেই ইতিহাসে নিজের নাম যোগ করা।