বিনোদন ডেস্ক :   বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তাঁর মা নীলা চৌধুরীর কাছে ছেলের শেষ স্মৃতিগুলো আজও অমলিন। বিশেষ করে ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ছেলের সঙ্গে হওয়া শেষ কথোপকথন মনে পড়লেই তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

নীলা চৌধুরী জানান, মৃত্যুর আগের দিন তিনি ছেলে সালমান শাহকে (ইমন) পরিবারের সঙ্গে সিলেট যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, কয়েক দিন বিশ্রাম নিলে ছেলের ভালো ...

বিনোদন ডেস্ক : বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তাঁর মা নীলা চৌধুরীর কাছে ছেলের শেষ স্মৃতিগুলো আজও অমলিন। বিশেষ করে ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ছেলের সঙ্গে হওয়া শেষ কথোপকথন মনে পড়লেই তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

নীলা চৌধুরী জানান, মৃত্যুর আগের দিন তিনি ছেলে সালমান শাহকে (ইমন) পরিবারের সঙ্গে সিলেট যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, কয়েক দিন বিশ্রাম নিলে ছেলের ভালো লাগবে। কিন্তু কাজের ব্যস্ততার কথা জানিয়ে সালমান বলেছিলেন, তাঁর ওপর অনেক মানুষের দায়িত্ব রয়েছে। এমনকি তিনি মাকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, পরে তাঁকে নিয়ে সিঙ্গাপুর ও ব্যাংকক ভ্রমণে যাবেন এবং দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাটাবেন।

মায়ের ভাষ্য, যে ছেলে আগের দিন ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করছিল এবং কাজ নিয়ে এত ব্যস্ত ছিল, তার পরদিন আত্মহত্যা করেছে—এটি তিনি কখনোই বিশ্বাস করতে পারেননি। সেই অসমাপ্ত ভ্রমণের পরিকল্পনা আজও তাঁর হৃদয়ে গভীর বেদনা হয়ে রয়েছে।

নীলা চৌধুরী বলেন, ছেলের মৃত্যুর পর তাঁর জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ আর ফিরে আসেনি। সালমানকে ছাড়া তাঁর ঘুম আসে না বলেও জানান তিনি। সময় যত গড়িয়েছে, ছেলেকে হারানোর শোক ততই গভীর হয়েছে।

মায়ের দাবি, সালমান শাহ অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মানবিক মানুষ ছিলেন। পরিবারের সব বিষয় তাঁর সঙ্গে ভাগ করে নিতেন এবং কোনো কিছুই মায়ের কাছ থেকে গোপন করতেন না। চলচ্চিত্রের সহকর্মীদের প্রতিও তিনি ছিলেন আন্তরিক। শুটিং সেটে কখনো তারকা-সহশিল্পী কিংবা জুনিয়র শিল্পীদের মধ্যে ভেদাভেদ করতেন না। আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিল্পীদের কাজের সুযোগ করে দেওয়ারও চেষ্টা করতেন।

ব্যক্তিগত জীবনেও ছেলের ব্যস্ততা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন নীলা চৌধুরী। তিনি বলেন, কাজের চাপে সালমানের ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া কিংবা নিজের জন্য সময় বের করার সুযোগ হতো না। এমনকি শপিং করার সময় না পেলে তিনি নিজেই ছেলের জন্য পোশাক কিনে দিতেন।

সালমান শাহর মৃত্যুর প্রসঙ্গ উঠতেই আবারও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন নীলা চৌধুরী। তাঁর দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যা। তিনি বলেন, ছেলে কারও ক্ষতি করেনি। তাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দেখে যেতে চান।

মায়ের কাছে সালমানের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতিগুলোর একটি হলো তাঁর গলায় থাকা প্রায় চার ভরির একটি সোনার চেইন। মৃত্যুর পর সেই চেইনটি নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন নীলা চৌধুরী। তাঁর ভাষায়, এটি শুধু একটি অলংকার নয়, বরং ছেলের স্মৃতির শেষ স্পর্শ।

সম্প্রতি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে খল অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন হক আটক হওয়ার পর সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে আলোচনা আবারও সামনে এসেছে।

গত বছর আদালতের নির্দেশে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই আলমগীর কুমকুম রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন। এতে সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে।

নীলা চৌধুরীর প্রত্যাশা, মামলার সব আসামিকে আইনের আওতায় এনে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে। তাঁর ভাষায়, একজন মা হিসেবে ছেলের হত্যার বিচার দেখেই তিনি জীবনের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে চান।