দেশের শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব করতে বিদ্যমান বিধিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সংশোধিত বিধিমালায় জীবন বীমা খাত ছাড়া অন্যান্য খাতের শেয়ারে মার্জিন ঋণের যোগ্যতা নির্ধারণে সর্বোচ্চ পিই রেশিও ৪০ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিওর ইক্যুইটি ২৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে আগাম নোটিশ ছাড়াই শেয়ার বিক্রির সুযোগ রাখা হয়েছে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের জন্য।

বৃহস্পতিবার মার্জিন ঋণ বিধিমালার সংশোধিত চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন ...

দেশের শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব করতে বিদ্যমান বিধিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সংশোধিত বিধিমালায় জীবন বীমা খাত ছাড়া অন্যান্য খাতের শেয়ারে মার্জিন ঋণের যোগ্যতা নির্ধারণে সর্বোচ্চ পিই রেশিও ৪০ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিওর ইক্যুইটি ২৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে আগাম নোটিশ ছাড়াই শেয়ার বিক্রির সুযোগ রাখা হয়েছে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের জন্য।

বৃহস্পতিবার মার্জিন ঋণ বিধিমালার সংশোধিত চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন করে গেজেট প্রকাশের জন্য বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠিয়েছে বিএসইসি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিশনের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম।

সংশোধিত বিধিমালায় সাধারণ সিকিউরিটিজের জন্য মার্জিন ঋণের অনুপাত ১:১ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ একজন বিনিয়োগকারী নিজের ইক্যুইটির সমপরিমাণ অর্থ মার্জিন ঋণ হিসেবে নিতে পারবেন।

মার্জিন ঋণের যোগ্যতা নির্ধারণে এবার পিই রেশিওকে প্রধান মানদণ্ড করা হয়েছে। ব্যাংক, নন-লাইফ বীমা ও অন্যান্য খাতের কোম্পানির শেয়ারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পিই রেশিও ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৪০ করা হয়েছে। তবে জীবন বীমা কোম্পানির শেয়ারের ক্ষেত্রে পিই রেশিওর পরিবর্তে প্রাইস-টু-বুক বা পিবি রেশিও প্রযোজ্য হবে।

নতুন বিধিমালায় প্রথমবারের মতো ট্রেইলিং পিই রেশিও ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে কোনো শেয়ারের বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে আগের ১২ মাসে কোম্পানির অর্জিত শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএসের তুলনা করে পিই রেশিও নির্ধারণ করা হবে। কোম্পানি নতুন ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করলে সেই তথ্যের ভিত্তিতে পিই রেশিওও হালনাগাদ করতে হবে।

মার্জিন কল ও শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রেও আগের তুলনায় বিনিয়োগকারীদের কিছুটা বেশি সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়মে পোর্টফোলিওর ইক্যুইটি ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকারীকে আগাম নোটিশ বা মার্জিন কল দেবে। এরপর ইক্যুইটি ২৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই শেয়ার বিক্রি করতে পারবে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান।

এর আগে প্রাথমিক খসড়ায় ইক্যুইটি ৭০ শতাংশের নিচে নামলে মার্জিন কল এবং ৫০ শতাংশের নিচে নামলে শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব করা হয়েছিল। চূড়ান্ত বিধিমালায় এই সীমা আরও শিথিল করা হয়েছে।

এদিকে ‘জেড’, ‘এন’ ও ‘জি’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ারে মার্জিন ঋণ দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে এসএমই বোর্ড, অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবি) এবং ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজও এ সুবিধার বাইরে থাকবে।

শুধু স্টক এক্সচেঞ্জের মূল মার্কেটে তালিকাভুক্ত ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ার মার্জিন ঋণের আওতায় আসবে।