শেয়ারবাজারে একাধিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ট্রেকহোল্ডার প্রতিষ্ঠান হাজী আহমেদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ সংরক্ষণে ২ কোটি ৯ লাখ টাকার বেশি ঘাটতি, বেআইনিভাবে কাস্টমার্স অ্যাকাউন্ট থেকে নগদ অর্থ উত্তোলন এবং একই ই-মেইল, মোবাইল ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে একাধিক বেনামী বিও হিসাব খোলার প্রমাণ পেয়েছে কমিশন।

সম্প্রতি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। কমিশনের আদেশ ও পরিদর্শন নথি ...

শেয়ারবাজারে একাধিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ট্রেকহোল্ডার প্রতিষ্ঠান হাজী আহমেদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ সংরক্ষণে ২ কোটি ৯ লাখ টাকার বেশি ঘাটতি, বেআইনিভাবে কাস্টমার্স অ্যাকাউন্ট থেকে নগদ অর্থ উত্তোলন এবং একই ই-মেইল, মোবাইল ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে একাধিক বেনামী বিও হিসাব খোলার প্রমাণ পেয়েছে কমিশন।

সম্প্রতি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। কমিশনের আদেশ ও পরিদর্শন নথি পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা গেছে। আদেশ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএসইসির নথি অনুযায়ী, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২০-এর রুল ৬(১) ও ৬(৫) অনুযায়ী ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের কাস্টমার্স অ্যাকাউন্টে বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্য অর্থ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক। কিন্তু ২০২২ সালের ১৩ জুনের আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনায় দেখা যায়, হাজী আহমেদ ব্রাদার্সের কাছে বিনিয়োগকারীদের পাওনা ছিল ১১ কোটি ৩৫ লাখ ৫ হাজার ৭০১ টাকা। বিপরীতে সংশ্লিষ্ট তহবিলে ছিল ৯ কোটি ২৫ লাখ ৫৫ হাজার ১৮ টাকা। ফলে ওই দিন সিসিএতে ঘাটতি দাঁড়ায় ২ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার ৬৮২ টাকা।

তবে শুধু ওই দিনই নয়, ২০২৩ সাল এবং ২০২৪ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত পরিদর্শনেও গ্রাহক তহবিলে ঘাটতি পাওয়া যায়। এতে প্রতিষ্ঠানটির কাস্টমার্স অ্যাকাউন্টে বিনিয়োগকারীদের অর্থ সংরক্ষণে ধারাবাহিক অনিয়মের প্রমাণ মেলে।

এ ছাড়া গ্রাহকের অর্থ লেনদেনেও বিধি লঙ্ঘনের তথ্য পেয়েছে বিএসইসি। নিয়ম অনুযায়ী কাস্টমার্স অ্যাকাউন্টের অর্থ অ্যাকাউন্ট পে চেক, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার, আরটিজিএস বা বিইএফটিএনের মতো ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন করার কথা। নগদ অর্থ উত্তোলনের সুযোগ নেই। কিন্তু পরিদর্শনে দেখা যায়, ২০২১ সালের ৬ জুন থেকে ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিটি ব্যাংকের একটি হিসাব থেকে চেকের মাধ্যমে নগদ অর্থ উত্তোলন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিও হিসাব পরিচালনাতেও অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। বিএসইসির ২০১৯ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি বিও হিসাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীর নিজস্ব ই-মেইল, মোবাইল নম্বর ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য থাকার কথা। কিন্তু হাজী আহমেদ ব্রাদার্সের ক্ষেত্রে একই তথ্য ব্যবহার করে একাধিক বিও হিসাব খোলার তথ্য পাওয়া যায়।

পরিদর্শনে এমন ৪০টি ই-মেইল শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলোর প্রতিটির বিপরীতে তিনটি থেকে সর্বোচ্চ ১৬টি পর্যন্ত বিও হিসাব খোলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ই-মেইল ঠিকানার বিপরীতে ১৬টি বিও হিসাব পরিচালনার তথ্য পাওয়া যায়। একইভাবে ২৪টি ব্যাংক হিসাবের বিপরীতে একাধিক বিও হিসাব থাকার প্রমাণও মিলেছে। এসব ব্যাংক হিসাবের প্রতিটির সঙ্গে তিন থেকে পাঁচটি পর্যন্ত বিও হিসাব যুক্ত ছিল। একই মোবাইল নম্বর একাধিক বিনিয়োগকারীর বিও হিসাবেও ব্যবহারের তথ্য পেয়েছে বিএসইসি।

এসব অনিয়মের বিষয়ে হাজী আহমেদ ব্রাদার্সের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয় কমিশন। তবে প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি বিএসইসি। এসব কর্মকাণ্ডকে শেয়ারবাজারের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে কমিশন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ধারা ২২ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ধারা ১৮-এর ক্ষমতাবলে হাজী আহমেদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কমিশনের আদেশ অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে পে-অর্ডারের মাধ্যমে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে।