রাজধানীর গুলশানে ১৩২/৩৩/১১ কেভি ভূগর্ভস্থ গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্পটি কাজ শেষ না করেই বাতিল করা হচ্ছে। ৯৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে ইতোমধ্যে ৭৭ কোটি ৮১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়ায় জটিলতা এবং নির্মাণ ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ৯৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ২৪৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণ থেকে ৬২৮ কোটি ...

রাজধানীর গুলশানে ১৩২/৩৩/১১ কেভি ভূগর্ভস্থ গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্পটি কাজ শেষ না করেই বাতিল করা হচ্ছে। ৯৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে ইতোমধ্যে ৭৭ কোটি ৮১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়ায় জটিলতা এবং নির্মাণ ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ৯৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ২৪৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণ থেকে ৬২৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (ডেসকো) নিজস্ব তহবিল থেকে ৭৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল।

প্রকল্পটি ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হলেও প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ রেখেই এটি সমাপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাইকার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের ঋণচুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রকল্পের জন্য ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস কনসালট্যান্ট নিয়োগ করা হয়। পাশাপাশি ডেসকোর নিজস্ব অর্থায়নে সুপারস্ট্রাকচারের ডিজাইন ও সমন্বয়ের জন্য স্থানীয় আর্কিটেকচারাল ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ৩৫ তলা সুপারস্ট্রাকচার নির্মাণের ডিজাইন, ড্রয়িং ও দরপত্রসংক্রান্ত নথি প্রস্তুত করে।

এরপর দরপত্র আহ্বান করা হলে দুটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। কারিগরি মূল্যায়নে একটি দরপত্র যোগ্য বিবেচিত হয়। তবে আর্থিক মূল্যায়নে দেখা যায়, সর্বনিম্ন মূল্যায়িত দর প্রায় ৮৮০ কোটি টাকা, যা প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের তুলনায় ৭১ শতাংশ বেশি। পরে দরদাতার সঙ্গে আলোচনা করে কিছুটা দর কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে জটিলতা কাটেনি।

পরবর্তীতে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি পুনরায় দরপত্র আহ্বানের সুপারিশ করে। বিষয়টি জাইকার কাছে পাঠানো হলে কভিড-১৯ মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাজারে অস্থিরতা ও নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়নের পরামর্শ দেয় সংস্থাটি।

এদিকে ডেসকো বোর্ডের সিদ্ধান্তে সর্বনিম্ন দরদাতার প্রস্তাবের ন্যায্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) দেওয়া হয়। বুয়েটের পর্যালোচনায়ও দরটি বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক বেশি বলে উঠে আসে। ফলে ওই দরদাতার সঙ্গে চুক্তি করা সম্ভব নয় বলে মত দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

সবশেষে বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে প্রকল্পটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আগামীকাল বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করা হবে।

সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ বলেন, প্রকল্প বাতিল কোনো সমাধান নয়। তাঁর মতে, প্রকল্পটির যে ধরনের সমীক্ষা করা হয়েছিল, তা ভুল ও অবাস্তব হয়ে থাকতে পারে। ডিপিপি প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। এত টাকা ও সময় অপচয়ের জন্য দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।