সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বা পে-স্কেল চলতি বছরেই বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে চূড়ান্ত বাস্তবায়নের আগে পে-স্কেলের বিভিন্ন দিক নিয়ে আরও পর্যালোচনা ও আলোচনা করা হবে।

সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে বিচারকদের পে-স্কেল পর্যালোচনা-সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী।

নতুন পে-স্কেল নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সময়মতো হবে। অবশ্যই হবে। এ বছরের মধ্যেই হবে। সবই হবে, কিন্তু এখানে তো অধিকতর আলোচনার ...

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বা পে-স্কেল চলতি বছরেই বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে চূড়ান্ত বাস্তবায়নের আগে পে-স্কেলের বিভিন্ন দিক নিয়ে আরও পর্যালোচনা ও আলোচনা করা হবে।

সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে বিচারকদের পে-স্কেল পর্যালোচনা-সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী।

নতুন পে-স্কেল নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সময়মতো হবে। অবশ্যই হবে। এ বছরের মধ্যেই হবে। সবই হবে, কিন্তু এখানে তো অধিকতর আলোচনার বিষয় আছে।’

বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে একটা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে; আরও দিক আছে। যখন পূর্ণাঙ্গ হবে, তখন আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।’ এর আগে তিনি বলেন, ‘পে কমিশনের অনেক দিক আছে, আমরা সব বিবেচনা করছি। আজকে অনেক আলোচনা হয়েছে। পরে আমরা আবার বসব। যখন বেতনকাঠামো চূড়ান্ত হবে, তখন আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব।’

সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকেও নতুন পে-স্কেল নিয়ে সুপারিশের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব রয়েছে। প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকর হতে পারে। সচিব কমিটির সব সদস্য চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছেন।

এর আগে গত রবিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেছিলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য যেকোনো মুহূর্তে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হবে। তবে এর ফলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে সাধারণ মানুষ বিপদে পড়বে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নবম জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ২০ দিন আগে কমিশন এ সুপারিশ দেয়।

বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে অর্থ বরাদ্দ রাখার কথা জানিয়েছিলেন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। কমিশনের সুপারিশ পরীক্ষা করার জন্য একটি কমিটি গঠনের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বাড়তি অর্থের প্রয়োজন দেখা দেয়। আগের সরকারের বাজেটে পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান না থাকায় নতুন করে বরাদ্দের বিষয়টি সামনে আসে।

এদিকে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ও নিত্যপণ্য আমদানিতে ব্যয় বাড়ায় সরকারের আর্থিক চাপও বেড়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মধ্যেও পে-স্কেল বাস্তবায়নের অর্থসংস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

২০১৩ সালে অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের ১২ বছর পর ২০২৫ সালে নতুন বেতন কমিশন গঠন করা হয়। গত ২১ জানুয়ারি কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।