বছরের পর বছর বন্ধ থাকা সরকারি দুটি টেক্সটাইল মিল আবার উৎপাদনে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় মাগুরা টেক্সটাইল মিলস ও নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস ৩০ বছরের জন্য বেসরকারি অংশীদারের কাছে দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়েছে।

আজ বুধবার অনুমোদনের জন্য অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় প্রস্তাব দুটি উপস্থাপন করা হবে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে দুই মিল পরিচালনার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন ...

বছরের পর বছর বন্ধ থাকা সরকারি দুটি টেক্সটাইল মিল আবার উৎপাদনে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় মাগুরা টেক্সটাইল মিলস ও নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস ৩০ বছরের জন্য বেসরকারি অংশীদারের কাছে দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়েছে।

আজ বুধবার অনুমোদনের জন্য অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় প্রস্তাব দুটি উপস্থাপন করা হবে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে দুই মিল পরিচালনার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়েছে। মাগুরা টেক্সটাইল মিলস পরিচালনার চুক্তি হতে পারে চরকা টেক্সটাইল লিমিটেডের সঙ্গে। আর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস পরিচালনার দায়িত্ব পেতে পারে ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস লিমিটেড (সিএইচপি)।

সরকারের লক্ষ্য হলো নতুন করে বড় ধরনের সরকারি বিনিয়োগ ছাড়াই দীর্ঘদিনের বন্ধ শিল্পকারখানা চালু করা। এতে বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে সরকারি সম্পদের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর সুযোগ তৈরি হবে।

তবে ৩০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে সরকারি সম্পদের যথাযথ মূল্যায়ন ও ‘ভ্যালু ফর মানি’ নিশ্চিত করা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। বিশেষ করে মাগুরা টেক্সটাইল মিলসের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক দরপত্রে একাধিক প্রতিষ্ঠান নথি সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র একটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। ফলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারদর নির্ধারণের সুযোগ সীমিত হয়েছে।

মাগুরা টেক্সটাইল মিলস

মাগুরা টেক্সটাইল মিলসকে ৩০ বছরের জন্য বেসরকারি অংশীদারের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। মিলটির সরকারি জমির মূল্য প্রায় ১৩৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানের মোট সম্পদের মূল্য প্রায় ১৪৪ কোটি টাকা, যার বড় অংশই জমির মূল্য।

প্রস্তাব অনুযায়ী, চুক্তির শুরুতে সরকার ৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা আপফ্রন্ট প্রিমিয়াম এবং ৫০ লাখ টাকা উন্নয়ন ফি পাবে। তিন বছরের গ্রেস পিরিয়ড শেষে বার্ষিক কনসেশন ফি হবে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

অর্থাৎ সরকারি সম্পদের মূল্য বিবেচনায় শুরুতে সরাসরি নগদপ্রাপ্তি তুলনামূলক কম। তবে পিপিপি ব্যবস্থায় মিল চালু, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের দায়িত্ব বেসরকারি অংশীদারের ওপর থাকবে। উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি রপ্তানি ও কর-রাজস্বের মাধ্যমে সরকারের পরোক্ষ অর্থনৈতিক সুবিধাও তৈরি হতে পারে।

দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস

চার দশকের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলসও ৩০ বছরের জন্য বেসরকারি অংশীদারের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মিলটি পুনরায় চালু ও আধুনিকায়নে ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস লিমিটেড প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।

৩৭ দশমিক ৬৮ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত মিলটিতে প্রায় ৩ হাজার মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান হতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বেসরকারি অংশীদারকে মাসে ১২ লাখ ৯১ হাজার ৬৬৭ টাকা কনসেশন ফি দিতে হবে। প্রতি তিন বছর পর এ ফি ৩ শতাংশ করে বাড়বে।

এ ছাড়া এককালীন ৭৫ লাখ টাকা উন্নয়ন ফি এবং ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার পারফরম্যান্স সিকিউরিটি দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। মিলটির জমির মূল্য প্রায় ১০১ কোটি টাকা। তবে জমি বিক্রি না করে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারের জন্য বেসরকারি অংশীদারকে দেওয়া হবে।

সরকারি সূত্রের মতে, পিপিপির আওতায় দুটি মিল চালু হলে সরকারি বিনিয়োগের চাপ ছাড়াই অব্যবহৃত শিল্পসম্পদ কাজে লাগানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তবে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পুরো সময়ে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার, বিনিয়োগের বাস্তবায়ন এবং সরকারের আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে চুক্তির শর্ত কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।