বদলাচ্ছে অর্থবছর, বাড়তে পারে উন্নয়নকাজের গতি
দীর্ঘদিনের আলোচনা শেষে বাংলাদেশের অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমানে জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত অর্থবছর গণনা হলেও ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে তা পরিবর্তন করে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আগে ২০২৭-২৮ অর্থবছর হবে নয় মাসের।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থবছরের সময় পরিবর্তনের ফলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়তে পারে। কারণ বর্তমানে জুলাই-সেপ্টেম্বর বর্ষা মৌসুমে মাঠপর্যায়ে অনেক প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। আবার অর্থবছরের শেষ দিকে জুন মাসে বরাদ্দের বড় অংশ ...
দীর্ঘদিনের আলোচনা শেষে বাংলাদেশের অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমানে জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত অর্থবছর গণনা হলেও ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে তা পরিবর্তন করে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আগে ২০২৭-২৮ অর্থবছর হবে নয় মাসের।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থবছরের সময় পরিবর্তনের ফলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়তে পারে। কারণ বর্তমানে জুলাই-সেপ্টেম্বর বর্ষা মৌসুমে মাঠপর্যায়ে অনেক প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। আবার অর্থবছরের শেষ দিকে জুন মাসে বরাদ্দের বড় অংশ ব্যয়ের প্রবণতায় কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ বলেন, নতুন সময়সূচিতে অর্থবছরের শুরুতেই তুলনামূলক শুষ্ক মৌসুম পাওয়া যাবে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে সুবিধা হবে। পাশাপাশি অর্থবছরের শেষ দিকে তাড়াহুড়ো করে বরাদ্দ ব্যয়ের প্রবণতাও কমতে পারে।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান বলেন, অর্থবছর পরিবর্তনের এই সংস্কার দীর্ঘদিন ধরেই প্রয়োজন ছিল। মার্চের মধ্যে উন্নয়নকাজ শেষ করা গেলে পরবর্তী বর্ষা মৌসুমে কাজ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে। এতে সরকারি বিনিয়োগের উৎপাদনশীলতা বাড়তে পারে।
অর্থবছরের সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারি বাজেট, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), কর-শুল্ক, ঋণ, বিনিয়োগ, জিডিপি ও মূল্যস্ফীতির হিসাবেও পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে জুনে জাতীয় বাজেট ঘোষণা করা হলেও নতুন ব্যবস্থায় তা ফেব্রুয়ারিতে উপস্থাপন করতে হবে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন সময়সূচি কার্যকর হবে। আর পরিবর্তনের প্রস্তুতি হিসেবে ২০২৭-২৮ অর্থবছর নয় মাসের জন্য নির্ধারণ করা হবে।
