এআই শেয়ারে ধস, এক দিনেই উধাও ৩.৩৫ লাখ কোটি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) কোম্পানির শেয়ারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে আলোচনায় আসা ‘এআই গুরু’ হিসেবে পরিচিত লিওপোল্ড অ্যাসছেনব্রেনারের হেজ ফান্ডে এক দিনেই বিপুল লোকসান হয়েছে। এক দিনের ব্যবধানে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা উধাও হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই লোকসানের পর এআইভিত্তিক শেয়ারের মূল্যায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে লিওপোল্ডের হেজ ফান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
২৪ ...
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) কোম্পানির শেয়ারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে আলোচনায় আসা ‘এআই গুরু’ হিসেবে পরিচিত লিওপোল্ড অ্যাসছেনব্রেনারের হেজ ফান্ডে এক দিনেই বিপুল লোকসান হয়েছে। এক দিনের ব্যবধানে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা উধাও হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই লোকসানের পর এআইভিত্তিক শেয়ারের মূল্যায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে লিওপোল্ডের হেজ ফান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
২৪ বছর বয়সী লিওপোল্ড অ্যাসছেনব্রেনার আগে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ে কাজ করেছেন। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণামূলক বিভিন্ন প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন তিনি। চাকরির পাশাপাশি এআই নিয়ে নিয়মিত লেখালেখিও করতেন লিওপোল্ড।
ওপেনএআইয়ে কাজ করার সময়ই তাঁর বিশ্বাস তৈরি হয়, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্ব অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতে বড় পরিবর্তন আনবে। পরে চাকরি ছেড়ে একটি হেজ ফান্ড প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বিনিয়োগকারীদের বড় রিটার্ন দেওয়ার লক্ষ্যে এআই সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ারে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ শুরু করেন।
শুরুর দিকে তাঁর বিনিয়োগ কৌশল বেশ সফল হয়। দ্রুত বাড়তে থাকে ফান্ডের আকার। ওয়াল স্ট্রিটের বিভিন্ন ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে তাঁর হেজ ফান্ডের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। বিনিয়োগে রিটার্নের পরিমাণও একপর্যায়ে ১ হাজার শতাংশে পৌঁছেছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে পরিস্থিতি পরে বদলে যায়। এআই কোম্পানির শেয়ার কেনার জন্য বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিপুল ঋণ নেওয়ার তথ্য সামনে আসে। এতে ফান্ডের আকার আরও বড় হলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেকে অর্থ তুলে নেওয়া শুরু করলে ঋণ পরিশোধের জন্য চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্সসহ বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করতে হয়।
এরপর থেকে লিওপোল্ডের হেজ ফান্ডের সূচক ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে বলে বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন। সম্প্রতি এক দিনেই প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার হারানোর তথ্য সামনে এসেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা।
এই লোকসান যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক বাজারে এক দিনের বড় ক্ষতির রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর আগে ২০২১ সালে আর্চেগস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের পতনে বড় ধরনের লোকসান হয়েছিল। ওই ঘটনায় জেপি মর্গান ও মর্গান স্ট্যানলিরও বিপুল ক্ষতি হয়।
লিওপোল্ডের ফান্ডে সাম্প্রতিক এই ধসের পর এআইভিত্তিক কোম্পানির শেয়ারে অতিরিক্ত মূল্যায়ন হয়েছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের কেউ কেউ ঘটনাটিকে এআই শেয়ারের সম্ভাব্য ‘বুদ্বুদ’ নিয়ে সতর্কবার্তা হিসেবেও দেখছেন।
