দুই দিনেই টেস্ট হার, লজ্জার নতুন রেকর্ড বাংলাদেশের
টেস্ট ক্রিকেট মানেই পাঁচ দিনের লড়াই। ব্যাটিং-বোলিংয়ের পাশাপাশি ধৈর্য ও সেশন ধরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার খেলাও এটি। তবে সব টেস্ট যে পাঁচ দিন পর্যন্ত গড়ায়, তা নয়। এবার সেই বিরল তালিকায় বাংলাদেশের নামও যুক্ত হলো।
খেলাধুলা ডেস্ক : টেস্ট ক্রিকেট মানেই পাঁচ দিনের লড়াই। ব্যাটিং-বোলিংয়ের পাশাপাশি ধৈর্য ও সেশন ধরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার খেলাও এটি। তবে সব টেস্ট যে পাঁচ দিন পর্যন্ত গড়ায়, তা নয়। এবার সেই বিরল তালিকায় বাংলাদেশের নামও যুক্ত হলো।
ম্যাকাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মাত্র দুই দিনেই ইনিংস ও ৫১ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। টেস্ট ইতিহাসে এটিই বাংলাদেশের প্রথম দুই দিনের হার।
পরাজয়ের ধরনটিও বাংলাদেশের জন্য বিব্রতকর। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯৫ রান। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ম্যাচে দুই ইনিংসেই এক শর নিচে অলআউট হলো দল। সব মিলিয়ে ২১ বছর পর কোনো টেস্টে এমন ঘটনা ঘটল।
অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগেই ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর সিরিজের পরের ম্যাচেই সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখল ক্রিকেট বিশ্ব।
দুই দিনে শেষ হওয়া টেস্টের সংখ্যা খুব বেশি নয়। বাংলাদেশের ম্যাচটি নিয়ে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮-এ। ১৮৮২ সালে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছিল এই বিরল তালিকা। সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া জিতেছিল ৭ রানে।
এরপর ১৪৪ বছরে আরও ২৭টি টেস্ট দুই দিনেই শেষ হয়েছে। তালিকায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার নাম। দক্ষিণ আফ্রিকা দুই দিনে শেষ হওয়া টেস্টে সবচেয়ে বেশি ৯ বার হেরেছে। ইংল্যান্ড হেরেছে পাঁচবার এবং অস্ট্রেলিয়া চারবার।
বাংলাদেশ এবার যোগ দিল সেই তালিকায়। তবে আগের দুই দিনের টেস্টগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের ম্যাচটি আলাদা হয়ে থাকবে দুই ইনিংসেই এক শর নিচে অলআউট হওয়ার কারণে।
দুই দিনে শেষ হওয়া টেস্টের তালিকা
১. ২৮ আগস্ট ১৮৮২—অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ৭ রানে জয়ী।২. ১৬ জুলাই ১৮৮৮—অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ৬১ রানে জয়ী।৩. ১৩ আগস্ট ১৮৮৮—অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ড, ইংল্যান্ড ইনিংস ও ১৩৭ রানে জয়ী।৪. ৩০ আগস্ট ১৮৮৮—ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ইনিংস ও ২১ রানে জয়ী।৫. ১২ মার্চ ১৮৮৯—দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম ইংল্যান্ড, ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী।৬. ২৫ মার্চ ১৮৮৯—ইংল্যান্ড বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ইনিংস ও ২০২ রানে জয়ী।৭. ১১ আগস্ট ১৮৯০—অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ড, ইংল্যান্ড ২ উইকেটে জয়ী।৮. ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৮৯৬—ইংল্যান্ড বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ২৮৮ রানে জয়ী।৯. ২১ মার্চ ১৮৯৬—দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম ইংল্যান্ড, ইংল্যান্ড ইনিংস ও ৩৩ রানে জয়ী।১০. ২৭ মে ১৯১২—অস্ট্রেলিয়া বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ও ৮৮ রানে জয়ী।১১. ১২ আগস্ট ১৯১২—দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম ইংল্যান্ড, ইংল্যান্ড ১০ উইকেটে জয়ী।১২. ২৮ মে ১৯২১—ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রেলিয়া ১০ উইকেটে জয়ী।১৩. ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৩১—ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ও ১২২ রানে জয়ী।১৪. ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬—দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ও ৮৪ রানে জয়ী।১৫. ২৯ মার্চ ১৯৪৬—নিউজিল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ও ১০৩ রানে জয়ী।১৬. ১৭ আগস্ট ২০০০—ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম ইংল্যান্ড, ইংল্যান্ড ইনিংস ও ৩৯ রানে জয়ী।১৭. ১১ অক্টোবর ২০০২—পাকিস্তান বনাম অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ও ১৯৮ রানে জয়ী।১৮. ৪ মার্চ ২০০৫—জিম্বাবুয়ে বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংস ও ২১ রানে জয়ী।১৯. ৭ আগস্ট ২০০৫—নিউজিল্যান্ড বনাম জিম্বাবুয়ে, নিউজিল্যান্ড ইনিংস ও ২৯৪ রানে জয়ী।২০. ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭—দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম জিম্বাবুয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংস ও ১২০ রানে জয়ী।২১. ১৪ জুন ২০১৮—ভারত বনাম আফগানিস্তান, ভারত ইনিংস ও ২৬২ রানে জয়ী।২২. ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১—ইংল্যান্ড বনাম ভারত, ভারত ১০ উইকেটে জয়ী।২৩. ২ মার্চ ২০২১—আফগানিস্তান বনাম জিম্বাবুয়ে, জিম্বাবুয়ে ১০ উইকেটে জয়ী।২৪. ১৭ ডিসেম্বর ২০২২—দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রেলিয়া ৬ উইকেটে জয়ী।২৫. ৩ জানুয়ারি ২০২৪—দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম ভারত, ভারত ৭ উইকেটে জয়ী।২৬. ২১ নভেম্বর ২০২৫—ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেটে জয়ী।২৭. ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫—অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ড, ইংল্যান্ড ৫ উইকেটে জয়ী।২৮. ২২ আগস্ট ২০২৬—অস্ট্রেলিয়া বনাম বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ও ৫১ রানে জয়ী।
