দুই কারণে ফিফার সভাপতি হতে চান না সেফেরিন
খেলাধুলা ডেস্ক : ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন। ইনফান্তিনোকে পদত্যাগ করা অথবা আগামী মার্চের নির্বাচনে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার আহ্বান জানালেও নিজে ফিফার সভাপতি হওয়ার কোনো আগ্রহ নেই বলে জানিয়েছেন সেফেরিন।
বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইনফান্তিনো। পরে সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হলেও ফিফা সভাপতির পদ থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানোর দাবি জোরালো হয়েছে।
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ...
খেলাধুলা ডেস্ক : ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন। ইনফান্তিনোকে পদত্যাগ করা অথবা আগামী মার্চের নির্বাচনে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার আহ্বান জানালেও নিজে ফিফার সভাপতি হওয়ার কোনো আগ্রহ নেই বলে জানিয়েছেন সেফেরিন।
বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইনফান্তিনো। পরে সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হলেও ফিফা সভাপতির পদ থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানোর দাবি জোরালো হয়েছে।
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ইউরোপের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। এ ছাড়া এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) ও উত্তর আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনক্যাকাফ থেকেও তাঁর পদত্যাগের চাপ এসেছে। আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) এবং এশিয়ার কয়েকটি দেশের সমর্থন অবশ্য এখনো ইনফান্তিনোর সঙ্গে রয়েছে।
সোমবার ‘দ্য রেস্ট ইজ পলিটিকস’ পডকাস্টে সেফেরিন বলেন, তিনি ফিফা সভাপতি হওয়ার দৌড়ে যেতে চান না। এর পেছনে দুটি কারণও জানিয়েছেন ৫৮ বছর বয়সী স্লোভেনীয়।
সেফেরিন বলেন, “দুটি কারণে আমি এতে আগ্রহী নই। একটি হলো, আমি উয়েফাকে ভালোবাসি এবং এখানে কাজ করতে আমার ভালো লাগে। আর আমার মনে হয়, একটি নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে জীবনও কিছুটা উপভোগের সময় আসে। দ্বিতীয় কারণ, এই পদের প্রতি আমার আগ্রহ না থাকলে আমার গ্রহণযোগ্যতা অনেক, অনেক বেশি থাকবে।”
ইনফান্তিনো পুনর্নির্বাচনে অংশ নিলে তাঁকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলেও মনে করেন সেফেরিন। তাঁর ভাষায়, ইনফান্তিনোর সামনে দুটি পথ রয়েছে—পদত্যাগ করা অথবা মার্চের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা।
সেফেরিন বলেন, “তিনি যদি বুঝতে পারেন যে তাঁর কোনো সমর্থন নেই—শুধু ভোটদাতাদের রাজনৈতিক সমর্থন নয়, বরং ফুটবল সম্প্রদায়, সমর্থক, খেলোয়াড়, সাবেক খেলোয়াড় ও কোচদের সমর্থনও নেই—তাহলে একটি বিকল্প হলো পদত্যাগ করা। দ্বিতীয় বিকল্প হলো, মার্চে নির্বাচনে যাওয়া। সে ক্ষেত্রে আমি মনে করি, তাঁর বিপক্ষে একজন প্রার্থী থাকবেন। আমি এখনো জানি না তিনি কে।”
মরক্কোর রাবাতে আগামী বছরের ১৮ মার্চ ফিফার ৭৭তম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই ফিফার পরবর্তী নেতৃত্ব নির্ধারণের জন্য নির্বাচন হওয়ার কথা। ২০১৬ সাল থেকে ফিফা সভাপতির দায়িত্বে থাকা ইনফান্তিনোও পুনর্নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
কনক্যাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তাগলিয়ানি এবং এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল-খলিফাকে ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মার্চের নির্বাচনের আগে উয়েফা, এএফসি ও কনক্যাকাফ ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আরও একটি বিকল্প পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করছে। এর মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের বিষয়টিও রয়েছে।
এদিকে ইনফান্তিনো পুনর্নির্বাচনে তুলনামূলক কম সচ্ছল দেশগুলোর সমর্থনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। সম্প্রতি ক্যারিবিয়ান ফুটবল ইউনিয়নের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের পর ফিফার প্রকাশিত এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ফুটবলের ব্যবধান কমিয়ে আনা ফিফার অন্যতম লক্ষ্য।
