‘মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ার পর আতঙ্কে শ্বাস নিতে পারছিলাম না’
বিনোদন ডেস্ক : হঠাৎ করেই জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে বড় ধাক্কা আসে হলিউড অভিনেত্রী বিজি ফিলিপসের। কোনো শারীরিক উপসর্গ না থাকলেও পরীক্ষায় তাঁর মস্তিষ্কে ধরা পড়ে একটি টিউমার। এরপর অস্ত্রোপচারসহ গত ছয় মাস তাঁকে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
সম্প্রতি পিপল ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অসুস্থতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন ফিলিপস। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর মনে হচ্ছিল মস্তিষ্ক ঠিকভাবে কাজ করছে না। তবে বিষয়টিকে শুরুতে বড় কোনো সমস্যা হিসেবে দেখেননি তিনি।
ফিলিপস ...
বিনোদন ডেস্ক : হঠাৎ করেই জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে বড় ধাক্কা আসে হলিউড অভিনেত্রী বিজি ফিলিপসের। কোনো শারীরিক উপসর্গ না থাকলেও পরীক্ষায় তাঁর মস্তিষ্কে ধরা পড়ে একটি টিউমার। এরপর অস্ত্রোপচারসহ গত ছয় মাস তাঁকে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
সম্প্রতি পিপল ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অসুস্থতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন ফিলিপস। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর মনে হচ্ছিল মস্তিষ্ক ঠিকভাবে কাজ করছে না। তবে বিষয়টিকে শুরুতে বড় কোনো সমস্যা হিসেবে দেখেননি তিনি।
ফিলিপস বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে মাঝেমধ্যে বন্ধুদের কাছে তিনি তাঁর মস্তিষ্ক ঠিকমতো কাজ না করার কথা বলতেন। প্রথম দিকে বয়সজনিত শারীরিক পরিবর্তন বা মেনোপজের আগের সময়ের প্রভাব বলে বিষয়টিকে মনে করেছিলেন তিনি। কিন্তু অস্বস্তির অনুভূতিটি থেকে যায়।
এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁর সাবেক স্বামী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মার্ক সিলভারস্টেইন তাঁকে আবার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেন। পরে এমআরআই করানোর সিদ্ধান্ত নেন ফিলিপস। পরীক্ষার ফলেই ধরা পড়ে গ্রেড-২ অলিগোডেনড্রোগ্লিওমা। এটি মস্তিষ্কের একটি বিরল ও ধীরে বেড়ে ওঠা টিউমার।
রোগের কথা জানার পর প্রচণ্ড আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অভিনেত্রী। নিজের সেই মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘টিউমার শোনার পর শ্বাস নিতে পারছিলাম না, দ্রুত শ্বাস নিচ্ছিলাম।’
ফিলিপসের জন্য সময়টি আরও কঠিন হয়ে ওঠে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহ-অভিনেতা জেমস ভ্যান ডার বিকের মৃত্যুর কারণে। ফিলিপসের মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ার মাত্র কয়েক দিন আগে কোলন ক্যানসারে মারা যান এই অভিনেতা। বন্ধুর মৃত্যুর ঘটনাটিও তাঁকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়।
তবে কঠিন পরিস্থিতিতেও ভেঙে পড়েননি ফিলিপস। বন্ধু ও সহকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া সাহস তাঁকে চিকিৎসার পথে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে।
রোগ শনাক্ত হওয়ার প্রায় এক মাস পর, মার্চে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা ওই অস্ত্রোপচারে চিকিৎসকেরা তাঁর মস্তিষ্ক থেকে ২ দশমিক ৬ সেন্টিমিটার আকারের একটি পিণ্ড অপসারণ করেন। অস্ত্রোপচারের মাত্র দুই দিন পরই হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন তিনি।
অস্ত্রোপচারের পর নিজের অনুভূতিতেও পরিবর্তন এসেছে বলে জানান ফিলিপস। তাঁর ভাষায়, ‘অস্ত্রোপচারের পর আমার অনুভূতি বদলে গেছে। এখন আমার মস্তিষ্ক ভাঙা মনে হয় না।’
গত ছয় মাসের অভিজ্ঞতাকে জীবনের সবচেয়ে অদ্ভুত সময়গুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছেন এই অভিনেত্রী।
