অ্যালায়েন্স ক্যাপিটালকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা
নির্ধারিত সময়ে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী জমা না দেওয়ায় শেয়ারবাজারের সদস্যভুক্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
২০২২ ও ২০২৩ সালের হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাখিল না করায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিএসইসির মতে, এ ধরনের ব্যর্থতা সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচ্যুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০০১-এর বিধি ৩৩(৩)-এর লঙ্ঘন।
সম্প্রতি এ বিষয়ে আদেশ জারি করেছে কমিশন। ...
নির্ধারিত সময়ে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী জমা না দেওয়ায় শেয়ারবাজারের সদস্যভুক্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
২০২২ ও ২০২৩ সালের হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাখিল না করায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিএসইসির মতে, এ ধরনের ব্যর্থতা সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচ্যুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০০১-এর বিধি ৩৩(৩)-এর লঙ্ঘন।
সম্প্রতি এ বিষয়ে আদেশ জারি করেছে কমিশন। আদেশ অনুযায়ী, ৫ লাখ টাকা জরিমানার অর্থ আদেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে বিএসইসির অনুকূলে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুই বছরের হিসাব দাখিলে অনিয়ম
বিএসইসি জানিয়েছে, বিধি ৩৩(৩) অনুযায়ী কোনো সম্পদ ব্যবস্থাপককে প্রতিটি হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী হিসাব বছর শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে কমিশন, ট্রাস্টি ও কাস্টডিয়ানের কাছে জমা দিতে হয়।
কিন্তু অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল ২০২৩ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে ব্যর্থ হয়।
এর আগে ২০২২ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের আর্থিক বিবরণীও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাখিল করেনি প্রতিষ্ঠানটি। ওই বছরের আর্থিক বিবরণী ২৭ অক্টোবর ২০২২ তারিখে জমা দেওয়া হয়, যা নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক মাস পর।
বিএসইসির তদন্তের কারণে অডিট আটকে থাকার দাবি
২০২৩ সালের আর্থিক বিবরণী সময়মতো দাখিল না করার বিষয়ে ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি অ্যালায়েন্স ক্যাপিটালের কাছে ব্যাখ্যা চায় বিএসইসির সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
জবাবে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বিএসইসির চলমান তদন্তের কারণে তাদের ব্যবস্থাপনায় থাকা দুই মিউচ্যুয়াল ফান্ড—এমটিবি ইউনিট ফান্ড ও অ্যালায়েন্স সন্ধানী লাইফ ইউনিট ফান্ডের লেনদেন স্থগিত ছিল। এর ফলে ফান্ড দুটির অডিট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। একই কারণে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আর্থিক বিবরণীর অডিটও সময়মতো শেষ করা যায়নি বলে দাবি করে অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল।
একাধিক কার্যক্রমে জটিলতার দাবি
চলতি বছরের ২৯ জুন অনুষ্ঠিত শুনানিতে জরিমানা এড়াতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার আসাদুল ইসলাম এবং হেড অব রিসার্চ আশিক রায়হান লিখিত ব্যাখ্যা দেন।
তাঁরা জানান, দুই মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ওপর দীর্ঘদিনের বিধিনিষেধের কারণে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাবে অডিট, কর ও ভ্যাট পরিশোধ, যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে (আরজেএসসি) ফাইলিং, বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজন, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লাইসেন্স নবায়ন এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক ফি পরিশোধসহ একাধিক কাজ সময়মতো করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিষ্ঠানটি আরও দাবি করে, বিএসইসি, ট্রাস্টি, কাস্টডিয়ান ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিডিবিএল) নিয়মিত অর্থ পরিশোধ, নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) প্রকাশ, বাধ্যতামূলক তথ্য প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও সাংগঠনিক কাঠামো বজায় রাখতেও তাদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে।
এ ছাড়া ফান্ড থেকে ব্যবস্থাপনা ফি না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে দাবি করে অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল।
ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি কমিশন
তবে অ্যালায়েন্স ক্যাপিটালের এসব ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য মনে করেনি বিএসইসি। কমিশনের মতে, প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া বক্তব্যের মধ্যেই আইন ও বিধি পরিপালনে ব্যর্থতার বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে।
বিএসইসি বলেছে, আইন ও বিধি পরিপালনে ব্যর্থতা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ধারা ১৮ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই সংশ্লিষ্ট সব বিষয় বিবেচনা করে ওই ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
কমিশনের এ সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য শেয়ারবাজারে আর্থিক প্রতিবেদন দাখিলে নিয়ম-শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
