দুর্বল ব্যবসা নিয়েই চার বছর আগে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছিল চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স। শেয়ারবাজার থেকে ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করেও ব্যবসায় কোনো উন্নতি করতে পারেনি কোম্পানিটি। বরং এরই মধ্যে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা ব্যয় নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

২০২৫ সালে বীমা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সীমার চেয়ে ৭ কোটি ৪৮ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯৭ টাকা বেশি ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে চার্টার্ড লাইফ। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ কোম্পানিটির ওই বছরের ৬৪ লাখ টাকার মুনাফার প্রায় ১২ গুণ।

কোম্পানিটির ২০২৫ ...

দুর্বল ব্যবসা নিয়েই চার বছর আগে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছিল চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স। শেয়ারবাজার থেকে ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করেও ব্যবসায় কোনো উন্নতি করতে পারেনি কোম্পানিটি। বরং এরই মধ্যে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা ব্যয় নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

২০২৫ সালে বীমা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সীমার চেয়ে ৭ কোটি ৪৮ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯৭ টাকা বেশি ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে চার্টার্ড লাইফ। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ কোম্পানিটির ওই বছরের ৬৪ লাখ টাকার মুনাফার প্রায় ১২ গুণ।

কোম্পানিটির ২০২৫ সালের আর্থিক হিসাবের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

২০২২ সালের ৩০ অক্টোবর শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয় চার্টার্ড লাইফের। ওই বছর কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ২৪ পয়সা আয় করে ৯০ লাখ টাকা মুনাফা করেছিল। পরের বছর মুনাফা কমে দাঁড়ায় ৫৯ লাখ টাকা বা শেয়ারপ্রতি ১৬ পয়সা। ২০২৪ সালে আরও পতনের মাধ্যমে কোম্পানিটির ৪১ লাখ টাকা বা শেয়ারপ্রতি ১১ পয়সা লোকসান হয়। আর ২০২৫ সালে মুনাফা দাঁড়ায় ৬৪ লাখ টাকা বা শেয়ারপ্রতি ১৭ পয়সায়। অর্থাৎ, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর চার্টার্ড লাইফের মুনাফায় কোনো প্রবৃদ্ধি দেখা যায়নি।

ব্যবসা সম্প্রসারণ ও মুনাফা বাড়ানোর লক্ষ্যেই ২০২২ সালে শেয়ারবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল চার্টার্ড লাইফ। এর মধ্যে শেয়ারবাজারে ৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং ট্রেজারি বন্ডে ৬ কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা জানিয়েছিল কোম্পানিটি। তবে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের চার বছর পরও কোম্পানিটির মুনাফায় তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আইন অনুযায়ী অনুমোদিত সীমার চেয়ে বড় অঙ্কের ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে কোম্পানিটি।

চার্টার্ড লাইফের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে নিরীক্ষক জানিয়েছেন, বীমা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সীমার চেয়ে ৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা বেশি ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে কোম্পানিটি। আর্থিক বিবরণীর নোট ৩১-এ ব্যবস্থাপনা জানিয়েছে, ২০২৫ সালে কোম্পানিটির মোট ব্যবস্থাপনা ব্যয় হয়েছে ৩৯ কোটি ২১ লাখ ৫ হাজার ২১৭ টাকা। তবে বীমা আইন, ২০১০-এর ৬২(২) ধারা অনুযায়ী অনুমোদিত সীমার তুলনায় এই ব্যয় ৭ কোটি ৪৮ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯৭ টাকা বেশি।

এই অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে কোম্পানিটির ২০২৫ সালে মুনাফা ৬৪ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা হতে পারতো।

অতিরিক্ত এই ব্যবস্থাপনা ব্যয় অনুমোদনের জন্য বীমা আইন, ২০১০-এর ৬২(১) ধারা অনুযায়ী বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে ছাড়ের আবেদন করেছে কোম্পানিটি। তবে আইডিআরএর কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো ছাড়পত্র পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক।

তবে অতিরিক্ত ব্যয় কমাতে অলাভজনক শাখা বন্ধ, জনবল পুনর্গঠন ও ওভারহেড ব্যয় কমানোর মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। এতে গত বছরের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় ১৫ শতাংশ কমেছে।

চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বর্তমানে পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালক ছাড়া অন্যান্য শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে ৪০ শতাংশ। মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৪৩ টাকা ৮০ পয়সা।