এলএনজির দামে লাগামহীন উল্লম্ফন, কয়েক মাসে দ্বিগুণের বেশি
মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। গত বছরের ডিসেম্বরেও যেখানে প্রতি এমএমবিটিইউ (মেট্রিক মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট) ১০.৫০ ডলারের কম দামে এলএনজি কিনেছিল সরকার, এবার সেই দাম উঠে গেছে ২৮ ডলারের ওপরে। বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবার চারটি এলএনজি কার্গো কিনতে সর্বোচ্চ ২৮.০৩ ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে সরকারকে।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা ...
মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। গত বছরের ডিসেম্বরেও যেখানে প্রতি এমএমবিটিইউ (মেট্রিক মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট) ১০.৫০ ডলারের কম দামে এলএনজি কিনেছিল সরকার, এবার সেই দাম উঠে গেছে ২৮ ডলারের ওপরে। বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবার চারটি এলএনজি কার্গো কিনতে সর্বোচ্চ ২৮.০৩ ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে সরকারকে।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে চারটি এলএনজি কার্গো কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
এবার অনুমোদিত চার কার্গোর মধ্যে আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুরের দুটি জাহাজের প্রতি এমএমবিটিইউ দাম যথাক্রমে ২৭.৫৪ ও ২৩.৯৮ ডলার। বিপি সিঙ্গাপুরের একটি কার্গোর দাম পড়বে ২৮.০৩ ডলার এবং ভিটল এশিয়ার একটি কার্গোর দাম ২৬.৬৬ ডলার।
অর্থাৎ চার কার্গোর মধ্যে একটি কিনতেই প্রতি এমএমবিটিইউতে ২৮ ডলারের বেশি দিতে হচ্ছে সরকারকে। অথচ মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও এলএনজির অনুমোদিত ক্রয়মূল্য ছিল এর চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
গত ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪.৬৩ ডলার এবং ১৭ আগস্ট ২৩.৯৩ ডলার দরে এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সেই তুলনায় এবার নতুন কার্গোগুলোর কয়েকটির দাম আরও বেড়েছে।
ডিসেম্বরের ১০.৫০ ডলার থেকে এখন ২৮ ডলার
এলএনজির দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাটি সবচেয়ে স্পষ্ট হয় কয়েক মাসের ব্যবধান বিবেচনা করলে। গত বছরের ডিসেম্বরেও সরকার ১০.৫০ ডলারের কম দামে এলএনজি কিনেছিল। এখন সেই দাম বেড়ে সর্বোচ্চ ২৮.০৩ ডলারে পৌঁছেছে।
অর্থাৎ ডিসেম্বরের তুলনায় সর্বোচ্চ দামের কার্গোতে প্রতি এমএমবিটিইউতে সরকারের ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১৭.৫৩ ডলার। শতাংশের হিসাবে দাম বেড়েছে প্রায় ১৬৭ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দামের এই উল্লম্ফন দেশের বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতের জ্বালানি ব্যয়ের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। কারণ দেশে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে আমদানিনির্ভর এলএনজির ওপর সরকারের নির্ভরতা রয়েছে।
চার কার্গোর দামে ভিন্নতা
এবারের চারটি কার্গোর দামেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। সবচেয়ে বেশি দামে বিপি সিঙ্গাপুরের কার্গোটি কেনা হচ্ছে—প্রতি এমএমবিটিইউ ২৮.০৩ ডলারে। আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুরের একটি কার্গোর দাম ২৭.৫৪ ডলার এবং ভিটল এশিয়ার কার্গোর দাম ২৬.৬৬ ডলার।
অন্যদিকে আরামকোর অপর কার্গোটি তুলনামূলক কম দামে, ২৩.৯৮ ডলারে কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ একই সময়ে কেনা চার কার্গোর মধ্যেও সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দামের ব্যবধান প্রতি এমএমবিটিইউতে ৪.০৫ ডলার।
এলএনজির পাশাপাশি বাড়ছে অন্যান্য আমদানির ব্যয়
এলএনজির সঙ্গে এবার নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকি মূল্যে পণ্য সরবরাহ এবং কৃষকদের জন্য সার আমদানিরও অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
এক কোটি নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য ২ কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন ও ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনা হবে। এসব পণ্য কিনতে মোট ব্যয় হবে ৪৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
এর মধ্যে প্রতি লিটার ১৮৩ টাকা ৮৫ পয়সা দরে ২ কোটি লিটার পাম অলিন কিনতে ব্যয় হবে ৩৬৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। সর্বনিম্ন দরদাতা শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ পরিবহনসহ টিসিবির গুদাম পর্যন্ত এ তেল সরবরাহ করবে।
এ ছাড়া প্রতি কেজি ৭৭ টাকা ৯০ পয়সা দরে ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনতে ব্যয় হবে ৭৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। সর্বনিম্ন গ্রহণযোগ্য দরদাতা বঙ্গ মিলার্সের কাছ থেকে এ ডাল কেনা হবে।
কৃষকদের চাহিদা পূরণে মরক্কো থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি ও ৩০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানির সিদ্ধান্তও হয়েছে। দুই ধরনের সার আমদানিতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ৬৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা।
এর মধ্যে প্রতি টন ৮৯৪ ডলার দরে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার কিনতে ব্যয় হবে ৪৪০ কোটি ৯২ লাখ ৮ হাজার টাকা। আর প্রতি টন ৬৬৯.৩৩ ডলার দরে ৩০ হাজার টন টিএসপি সার কিনতে ব্যয় হবে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ৫৯ হাজার ৬৬০ টাকা।
সব মিলিয়ে জ্বালানি, খাদ্যপণ্য ও কৃষি উপকরণ আমদানিতে সরকারের ব্যয় বাড়ার চাপ তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে এলএনজির দাম কয়েক মাসে দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যয়ের চাপ আরও বাড়তে পারে।
