অ্যাপলের নতুন সিইওর বেতন ৬৮০ কোটি টাকা
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন জন টার্নাস। দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আলোচনায় এসেছে তাঁর পারিশ্রমিকের বিশাল অঙ্ক। নতুন সিইও হিসেবে চলতি অর্থবর্ষে টার্নাসের সম্ভাব্য মোট ‘টার্গেট কম্পেনসেশন’ ধরা হয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৬৮০ কোটি টাকার বেশি।
অর্থাৎ, গড়ে হিসাব করলে টার্নাসের বার্ষিক প্যাকেজের মূল্য দাঁড়ায় মাসে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা। তবে এই পুরো অর্থ নগদ বেতন ...
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন জন টার্নাস। দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আলোচনায় এসেছে তাঁর পারিশ্রমিকের বিশাল অঙ্ক। নতুন সিইও হিসেবে চলতি অর্থবর্ষে টার্নাসের সম্ভাব্য মোট ‘টার্গেট কম্পেনসেশন’ ধরা হয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৬৮০ কোটি টাকার বেশি।
অর্থাৎ, গড়ে হিসাব করলে টার্নাসের বার্ষিক প্যাকেজের মূল্য দাঁড়ায় মাসে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা। তবে এই পুরো অর্থ নগদ বেতন নয়; এর বড় অংশই শেয়ার বা স্টক অ্যাওয়ার্ড হিসেবে দেওয়া হবে।
অ্যাপলের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) জমা দেওয়া নথিতে টার্নাসের নতুন পারিশ্রমিকের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বেতন ৩৫ কোটি, শেয়ারেই শত শত কোটি
নতুন সিইও হিসেবে টার্নাসের মূল বার্ষিক বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ লাখ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৩৫ কোটি টাকা। তবে তাঁর পারিশ্রমিকের সবচেয়ে বড় অংশ আসবে শেয়ার পুরস্কার থেকে।
২০২৭ অর্থবর্ষের জন্য টার্নাসকে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার মূল্যের স্টক অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার কথা জানিয়েছে অ্যাপল। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য প্রায় ৬৪৫ কোটি টাকা।
অর্থাৎ, বেতন হিসেবে যে অর্থ পাবেন, তার তুলনায় শেয়ার পুরস্কারের মূল্য প্রায় ১৮ গুণের বেশি।
তবে এই স্টক অ্যাওয়ার্ডের প্রকৃত মূল্য স্থির নয়। অ্যাপলের শেয়ারের বাজারদর বাড়লে এর মূল্যও বাড়বে, আবার শেয়ারের দাম কমলে কমে যাবে।
পারফরম্যান্স ভালো হলে বাড়বে আয়
টার্নাসের ২০২৭ অর্থবর্ষের বড় ইকুইটি পুরস্কারের ৭৫ শতাংশ হবে কর্মক্ষমতাভিত্তিক রেস্ট্রিক্টেড স্টক ইউনিট (আরএসইউ)। এই অংশের মূল্য নির্ভর করবে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অ্যাপলের শেয়ারহোল্ডারদের মোট আয় কেমন হয়, তার ওপর।
বাকি ২৫ শতাংশ সময়ভিত্তিক আরএসইউ হিসেবে দেওয়া হবে। চার বছর ধরে সমান অর্ধবার্ষিক কিস্তিতে এই শেয়ার পাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
এ ছাড়া ২০২৬ অর্থবর্ষে দায়িত্ব পালনের সময়ের অনুপাতে টার্নাস প্রায় ২৫ লাখ ডলার মূল্যের আরএসইউ পাবেন।
টিম কুকের প্যাকেজও শত কোটি টাকার
অ্যাপলের সাবেক সিইও টিম কুক এখন নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই পদে তাঁর বার্ষিক বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৩ কোটি টাকা।
এর পাশাপাশি ২০২৭ অর্থবর্ষের জন্য কুক পাবেন প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার মূল্যের স্টক অ্যাওয়ার্ড, যার বাংলাদেশি মূল্য প্রায় ৫২৫ কোটি টাকা।
অর্থাৎ, নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবেও কুকের সম্ভাব্য মোট টার্গেট কম্পেনসেশন দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা।
সিইও থাকাকালে কুকের পারিশ্রমিক ছিল আরও বেশি। ২০২৫ সালে তিনি মোট প্রায় ৭ কোটি ৪৩ লাখ ডলার আয় করেছিলেন। এর মধ্যে ছিল ৩০ লাখ ডলার মূল বেতন, ১ কোটি ২০ লাখ ডলার কর্মক্ষমতাভিত্তিক নগদ পুরস্কার এবং ৫ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের শেয়ার পুরস্কার।
অ্যাপলের সিইও পদে টিম কুকের প্রায় ১৫ বছরের অধ্যায়ের পর এখন সেই দায়িত্ব টার্নাসের হাতে। দায়িত্বের পাশাপাশি নতুন সিইওর সামনে রয়েছে শত শত কোটি টাকার পারিশ্রমিক প্যাকেজ—যার বড় অংশই নির্ভর করবে অ্যাপলের ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক ও শেয়ারবাজারের পারফরম্যান্সের ওপর।
