নিবন্ধন সনদ নবায়ন না করায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউস হাজী আহমাদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজ লিমিটেডের স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার হিসেবে সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। গত ৭ আগস্ট থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে ডিএসই।

ডিএসইর চিঠি অনুযায়ী, হাজী আহমাদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজের স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার নিবন্ধন সনদের মেয়াদ ছিল গত ৬ আগস্ট পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ...

নিবন্ধন সনদ নবায়ন না করায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউস হাজী আহমাদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজ লিমিটেডের স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার হিসেবে সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। গত ৭ আগস্ট থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে ডিএসই।

ডিএসইর চিঠি অনুযায়ী, হাজী আহমাদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজের স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার নিবন্ধন সনদের মেয়াদ ছিল গত ৬ আগস্ট পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধন সনদ নবায়ন না করায় ৭ আগস্ট থেকে এর স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার হিসাবের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসই।

ডিএসই জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিধিমালার বিধান অনুসরণ করেই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০-এর বিধি ৩ অনুযায়ী, কার্যকর নিবন্ধন সনদ ছাড়া কোনো স্টক ডিলার, স্টক ব্রোকার বা অনুমোদিত প্রতিনিধি সিকিউরিটিজ কেনাবেচা বা এ-সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন না। বিধি ২১ ও ২২-এর সাপেক্ষেও এ বিধান কার্যকর।

ফলে নিবন্ধন সনদ নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত হাজী আহমাদ ব্রাদার্সের মাধ্যমে নতুন করে শেয়ার লেনদেন পরিচালনার সুযোগ থাকছে না।

গ্রাহক তহবিলে বড় ঘাটতি

এর আগে গ্রাহক তহবিল ও বিও হিসাব ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় হাজী আহমাদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বিএসইসির পরিদর্শন নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৩ জুন প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগকারীদের পাওনা ছিল ১১ কোটি ৩৫ লাখ ৫ হাজার ৭০১ টাকা। এর বিপরীতে সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে (সিসিএ) জমা ছিল ৯ কোটি ২৫ লাখ ৫৫ হাজার ১৮ টাকা। এতে গ্রাহক তহবিলে ঘাটতি দাঁড়ায় ২ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার ৬৮২ টাকা। ২০২৩-২৪ সালেও গ্রাহক তহবিলে একই ধরনের ঘাটতি পাওয়া যায়।

এ ছাড়া ২০২১ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কাস্টমার্স অ্যাকাউন্ট থেকে চেকের মাধ্যমে নগদ অর্থ উত্তোলনের তথ্যও পেয়েছে বিএসইসি।

একই তথ্য দিয়ে একাধিক বিও হিসাব

প্রতিষ্ঠানটির বিও হিসাব পরিদর্শনেও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। একাধিক বিও হিসাব খোলার ক্ষেত্রে একই ই-মেইল, মোবাইল নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে বিএসইসি।

পরিদর্শনে এমন ৪০টি ই-মেইল শনাক্ত করা হয়, যেগুলোর প্রতিটির বিপরীতে ৩ থেকে ১৬টি পর্যন্ত বিও হিসাব খোলা হয়েছিল। পাশাপাশি ২৪টি ব্যাংক হিসাবের বিপরীতেও একাধিক বিও হিসাব পাওয়া যায়।

এসব বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে হাজী আহমাদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে বিএসইসি। কমিশনের আদেশ অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে পে-অর্ডারের মাধ্যমে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে।