জিডিপির আশাতীত প্রবৃদ্ধি, তবু শেয়ারবাজারে স্বস্তি নেই
জাতীয় উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হওয়ায় উচ্ছ্বসিত সরকার। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ, যা রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) ৭ শতাংশ পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি। তবে প্রবৃদ্ধির এই খবরে উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি শেয়ারবাজারে। বরং জিডিপির পরিসংখ্যান প্রকাশের পর চার কার্যদিবসে বড় ধরনের পতন হয়েছে ভারতের শেয়ারবাজারে।
গত সোমবার চলতি অর্থবছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের জিডিপির তথ্য প্রকাশ করা হয়। আশাতীত প্রবৃদ্ধির খবরে সরকার ...
জাতীয় উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হওয়ায় উচ্ছ্বসিত সরকার। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ, যা রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) ৭ শতাংশ পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি। তবে প্রবৃদ্ধির এই খবরে উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি শেয়ারবাজারে। বরং জিডিপির পরিসংখ্যান প্রকাশের পর চার কার্যদিবসে বড় ধরনের পতন হয়েছে ভারতের শেয়ারবাজারে।
গত সোমবার চলতি অর্থবছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের জিডিপির তথ্য প্রকাশ করা হয়। আশাতীত প্রবৃদ্ধির খবরে সরকার পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী থেকে অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী—সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেই অর্থনীতির এই প্রবৃদ্ধিকে ইতিবাচক অর্জন হিসেবে তুলে ধরেছেন।
কিন্তু এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে শেয়ারবাজারে। জিডিপির তথ্য প্রকাশের পর সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার—চার কার্যদিবসে সেনসেক্স সূচক কমেছে ১ হাজার ১১১ পয়েন্ট। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির এমন শক্তিশালী পরিসংখ্যানের পরও কেন বাজারে তার প্রতিফলন দেখা গেল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে প্রশ্ন ও সংশয় রয়েছে, তার প্রভাব পড়তে পারে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবে। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান আশাব্যঞ্জক হলেও এর স্থায়িত্ব এবং প্রবৃদ্ধির প্রকৃত ভিত্তি নিয়ে ধন্দ থাকায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে থাকতে পারেন।
অন্যদিকে, চলতি মাসের শুরুতে অর্থনীতির বিভিন্ন খাত থেকে আসা কিছু পরিসংখ্যানও উচ্চ প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। যেমন, অগস্টে ভারতে যাত্রীবাহী গাড়ির বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। একই সময়ে পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) আদায় বেড়েছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ।
ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রেও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির চিত্র পাওয়া গেছে। অগস্টে ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেনের সংখ্যা ২ হাজার ৪৫০ কোটির গণ্ডি ছাড়িয়েছে। এসব লেনদেনের মোট আর্থিক পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকা।
অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে এমন ইতিবাচক প্রবণতা থাকলেও শেয়ারবাজারে তার প্রতিফলন না থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানের পাশাপাশি অর্থনীতির মৌলিক শক্তি, কর্পোরেট আয়ের সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা নিয়ে বাজারের সংশয় কাটে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
