১০০ চিঠি নিয়ে ডিএসই-ডিবিএর আলোচনা
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে চলমান মন্দাভাব, দরপতন ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হওয়া আতঙ্কের কারণ চিহ্নিত করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)–এর মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনলাইন মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ডিএসই ও ডিবিএর পর্ষদের সদস্যরা অংশ নেন। এ ছাড়া ডিএসইর প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (সিআরও) উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সম্প্রতি বাজারে তদারকি জোরদার করা এবং বিপুলসংখ্যক ব্রোকার ও বিনিয়োগকারীকে বিভিন্ন বিষয়ে চিঠি দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ...
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে চলমান মন্দাভাব, দরপতন ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হওয়া আতঙ্কের কারণ চিহ্নিত করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)–এর মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনলাইন মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ডিএসই ও ডিবিএর পর্ষদের সদস্যরা অংশ নেন। এ ছাড়া ডিএসইর প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (সিআরও) উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সম্প্রতি বাজারে তদারকি জোরদার করা এবং বিপুলসংখ্যক ব্রোকার ও বিনিয়োগকারীকে বিভিন্ন বিষয়ে চিঠি দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়। ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, সম্প্রতি শেয়ারবাজারে তদারকি অনেক বেড়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রায় ১০০ ব্রোকার ও বিনিয়োগকারীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। স্বল্প সময়ে এতসংখ্যক চিঠি দেওয়ায় বাজারে এক ধরনের প্যানিক বা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, চিঠিগুলোর বিষয়ে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা জানিয়েছে, এগুলোর অধিকাংশই ২০২৫ সালের কার্যক্রম বা লেনদেনসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এবং আগের কমিশনের নির্দেশনার আলোকে দেওয়া হয়েছে। এসব চিঠির মধ্যে ডিএসইর পক্ষ থেকে দেওয়া চিঠির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম বলেও ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক চিঠি দেওয়া ঠিক হয়নি—বৈঠকে অংশ নেওয়া সবাই এ বিষয়ে একমত হয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজন থাকলেও এ ধরনের চিঠি ধাপে ধাপে দেওয়া হলে বাজারে অযাচিত আতঙ্ক তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কম থাকত।
বৈঠকে ডিএসই কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, কোনো বিনিয়োগকারীকে শেয়ার কেনা বা বিক্রি করতে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তবে কোনো কোনো বিনিয়োগকারী ম্যানুপুলেশনের উদ্দেশ্যে বড় অঙ্কের ক্রয়াদেশ দিয়ে পরে তা প্রত্যাহার করছেন কি না, সে বিষয়ে নজরদারি করছে ডিএসই।
এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের কাছে কোয়ারি বা ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএসই। কারণ, বড় ক্রয়াদেশ দিয়ে বাজারে কৃত্রিমভাবে চাহিদা তৈরির পর তা প্রত্যাহার করা হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হয়ে ওই শেয়ার কেনাবেচায় জড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে মনে করছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ।
বৈঠকে বাজারের সাম্প্রতিক দরপতন, লেনদেনে ধীরগতি, বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি এবং বাজারে তদারকি ও নিয়ন্ত্রণমূলক কার্যক্রমের প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে করণীয় নিয়েও মতামত দেওয়া হয়।
এর আগে শেয়ারবাজারের চলমান মন্দাভাবের কারণ চিহ্নিত করা এবং বাজার পরিস্থিতির উন্নয়নে করণীয় নির্ধারণে ডিএসই ও ডিবিএর মধ্যে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বৈঠকে বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো এবং লেনদেনের গতি বাড়ানোর উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
