এমন ব্লাউজ পরার চেয়ে না পরাই ভালো
বিনোদন প্রতিবেদক : মহিলাদের পোশাক নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ও বিচার করার মানসিকতা নিয়ে ফের সরব হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী নীনা গুপ্ত। তাঁর দাবি, পোশাকের ধরন নিয়ে এখনো নারীদের নানা ধরনের মন্তব্য ও আপত্তির মুখে পড়তে হয়। এ প্রসঙ্গে নিজের এক বান্ধবীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাও তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি তাঁর নতুন ওয়েব সিরিজ ‘চুম্বক’-এর প্রচারে গিয়ে এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন নীনা গুপ্ত।
নারীদের পোশাক নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসঙ্গে নীনা বলেন, ...
বিনোদন প্রতিবেদক : মহিলাদের পোশাক নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ও বিচার করার মানসিকতা নিয়ে ফের সরব হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী নীনা গুপ্ত। তাঁর দাবি, পোশাকের ধরন নিয়ে এখনো নারীদের নানা ধরনের মন্তব্য ও আপত্তির মুখে পড়তে হয়। এ প্রসঙ্গে নিজের এক বান্ধবীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাও তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি তাঁর নতুন ওয়েব সিরিজ ‘চুম্বক’-এর প্রচারে গিয়ে এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন নীনা গুপ্ত।
নারীদের পোশাক নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসঙ্গে নীনা বলেন, দিল্লির সীতারাম বাজারের মতো এলাকায় এখনো নারীদের ঘোমটা দিয়ে মুখ ঢেকে রাখার প্রত্যাশা করা হয়। তাঁর মতে, সমাজের মানসিকতায় খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি।
নীনার ভাষায়, সমাজের মানসিকতা এমনই। আজও খুব বেশি কিছু বদলায়নি। যে পরিবর্তন হয়েছে, তা মাত্র কয়েক শতাংশ। তবে একটি বড় পরিবর্তন হলো—এখন নারীরা নিজেরা উপার্জন করছেন।
‘এমন ব্লাউজ পরার চেয়ে ব্লাউজ না পরাই ভালো’
এরপর নিজের এক বান্ধবীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা জানান নীনা। তিনি বলেন, ঘটনাটি সত্যি।
নীনা জানান, তাঁর এক বান্ধবী একটি দর্জির কাছে স্প্যাগেটি স্ট্র্যাপের ব্লাউজ বানাতে গিয়েছিলেন। ব্লাউজটির গলার কাট প্রায় ১০ থেকে ১১ ইঞ্চি রাখার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এ কথা শুনেই ওই দর্জি আপত্তি জানান।
দর্জি তাঁর বান্ধবীকে বলেন, ‘এমন ব্লাউজ পরার চেয়ে ব্লাউজ না পরাই ভালো।’
নীনার মতে, এ ধরনের মন্তব্যই প্রমাণ করে যে নারীরা কী পোশাক পরবেন, তা নিয়েও সমাজের একটি অংশ এখনো নিজেদের মত চাপিয়ে দিতে চায়।
পরিবর্তনের শুরু পরিবার ও শিক্ষা থেকে
নারীদের প্রতি এই দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে বদলানো সম্ভব—এমন প্রশ্নের জবাবে নীনা বলেন, ছেলেদের ছোটবেলা থেকেই নারীদের সম্মান করতে শেখাতে হবে। তাঁর মতে, ভালো শিক্ষা ও পারিবারিক মূল্যবোধের মাধ্যমেই এই মানসিকতার পরিবর্তন সম্ভব।
তিনি মনে করেন, পরিবর্তন রাতারাতি আসবে না। এ জন্য এক, দুই, তিন কিংবা চার প্রজন্ম পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। বিশেষ করে ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলে নারীদের সমান মর্যাদা নিয়ে আলোচনা করাও এখনো কঠিন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নীনার ভাষ্য, এসব এলাকায় এখনো অনেক ক্ষেত্রে ছেলেদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে নারীদের প্রতি সম্মান ও সমতার মানসিকতা গড়ে তুলতে ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।
সম্প্রতি অভিনেত্রী কৃতি শ্যাননের একটি বিজ্ঞাপনে তাঁর পোশাক নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরে বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। তবে এ ঘটনায় কৃতির পক্ষে অনেকে অবস্থান নেন। সেই প্রেক্ষাপটে নারীদের পোশাক নিয়ে নীনা গুপ্তের মন্তব্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
