আইপিওর বাইরেও শেয়ারবাজারে অর্থায়নের সুযোগ আছে: ডিএসই এমডি
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারকে শুধু আইপিও বা ইকুইটি বাজারের মধ্যে আটকে না রেখে বন্ডসহ বিভিন্ন খাতে অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার।
বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) ডিএসই প্রশিক্ষণ একাডেমিতে সুইসকন্ট্যাক্টের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত ‘আরএমজির অর্থায়নের পরিধি বাড়ানো: শেয়ারবাজারে সুযোগ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নুজহাত আনোয়ার বলেন, শেয়ারবাজার শুধু বিনিয়োগের জায়গা নয়, এটি দেশের অর্থনীতির বৃদ্ধি ও বেসরকারি খাতের প্রসারে দীর্ঘমেয়াদি ...
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারকে শুধু আইপিও বা ইকুইটি বাজারের মধ্যে আটকে না রেখে বন্ডসহ বিভিন্ন খাতে অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার।
বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) ডিএসই প্রশিক্ষণ একাডেমিতে সুইসকন্ট্যাক্টের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত ‘আরএমজির অর্থায়নের পরিধি বাড়ানো: শেয়ারবাজারে সুযোগ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নুজহাত আনোয়ার বলেন, শেয়ারবাজার শুধু বিনিয়োগের জায়গা নয়, এটি দেশের অর্থনীতির বৃদ্ধি ও বেসরকারি খাতের প্রসারে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বড় উৎস। তিনি বলেন, শেয়ারবাজারকে শুধু আইপিওর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বন্ডসহ নানা খাতে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে কার্যকর বন্ড বাজার গড়ার আলোচনা চললেও বর্তমান কমিশন ও সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগে এ খাতে নতুন করে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বেসরকারি খাতের অর্থায়নের চাহিদা ও শেয়ারবাজারের সক্ষমতার মধ্যে যে ফাঁক আছে, তা ঘোচানো জরুরি বলে মন্তব্য করেন ডিএসই এমডি। তিনি বলেন, অর্থায়নে বিদ্যমান নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক বাধাগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যালোচনা করতে হবে। বিশেষ করে আইপিওতে পাওয়া অর্থের ব্যবহার ও পুনঃঅর্থায়নের সুযোগ আরও কার্যকর করতে হবে।
উদ্যোক্তাদের প্রয়োজন ও বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শেয়ারবাজারের সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে সমাধানে কাজ করাই এ ধরনের আলোচনার মূল লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব পক্ষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি কার্যকর, স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব শেয়ারবাজার গড়তে ডিএসই কাজ করছে।
কর্মশালায় সুইসকন্ট্যাক্টের প্রকল্প প্রধান ফারজানা আমিন বলেন, ব্যাংকঋণের পাশাপাশি শেয়ারবাজারভিত্তিক অর্থায়নের সম্ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। শেয়ারবাজারে আসতে আগ্রহী আরএমজি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিকেএমইএর উপসচিব মোহাম্মদ হারুনূর রশিদ বলেন, দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো ব্যাংকনির্ভর। ফলে অর্থের অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা বাড়াতে পারে না। এ অবস্থায় শেয়ারবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের কার্যকর বিকল্প হতে পারে।
পরে নতুন বিধিমালায় তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়া নিয়ে লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের প্রধান নির্বাহী ইফতেখার আলম আইপিও, কিউআইও, কোম্পানি মূল্যায়ন, শেয়ার বরাদ্দ ও লক-ইন বিধানসহ বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
ডিএসইর বাজার উন্নয়ন বিভাগের প্রধান সাইয়িদ মাহমুদ জুবায়ের শেয়ারবাজারের কাঠামো, ডিএসইর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং ইকুইটি ও ঋণভিত্তিক অর্থায়নের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন।
সমাপনী বক্তব্যে ডিএসইর প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. মো. আসিফুর রহমান বলেন, আলোচনায় অংশীজনদের গঠনমূলক মতামত উঠে এসেছে। উদ্যোক্তাদের শেয়ারবাজারে আসতে ডিএসই উপদেষ্টা সেবা ও একান্ত পরামর্শ দিচ্ছে। শেয়ারবাজারের স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ডিএসই বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি।
সুইসকন্ট্যাক্টের আরেক প্রকল্প প্রধান বিধোরা তাহমিন খান বলেন, সুইসকন্ট্যাক্ট ২০ বছর ধরে আরএমজি খাতে কমপ্লায়েন্স, দক্ষতা ও সবুজ রূপান্তরে কাজ করছে। সম্ভাবনাময় আরএমজি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেয়ারবাজারে আনতে ডিএসই, বিএসইসি ও অন্যান্যদের সঙ্গে সমন্বয়ে সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
