যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি বাড়ছে, ইউরোপে গতি কম
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও অপ্রচলিত বাজারে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে দেশের সবচেয়ে বড় পোশাকের বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রপ্তানি বৃদ্ধির গতি তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ফলে একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও নতুন বাজারে রপ্তানি বাড়লেও ইউরোপের ধীরগতি পোশাকশিল্পের জন্য বাজার বৈচিত্র্যকরণের প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্ট সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়ে ১৬১ কোটি ২৯ লাখ ...
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও অপ্রচলিত বাজারে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে দেশের সবচেয়ে বড় পোশাকের বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রপ্তানি বৃদ্ধির গতি তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ফলে একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও নতুন বাজারে রপ্তানি বাড়লেও ইউরোপের ধীরগতি পোশাকশিল্পের জন্য বাজার বৈচিত্র্যকরণের প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্ট সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়ে ১৬১ কোটি ২৯ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা মোট ১২২ কোটি ৩২ লাখ ডলার।
অন্যদিকে, ইইউ বাজারে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এ সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশ ৩৪৯ কোটি ৩৯ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। মোট পোশাক রপ্তানিতে ইইউর অংশও কমেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে মোট রপ্তানিতে ইউরোপের অংশ ছিল ৪৭ দশমিক ৮২ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে নেমে এসেছে ৪৬ দশমিক ৬১ শতাংশে।
নতুন বাজারে তুরস্কে বড় উল্লম্ফন
অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি এসেছে তুরস্কে। জুলাই-আগস্ট সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৯৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ। একই সময়ে ব্রাজিলে রপ্তানি বেড়েছে ৩৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৪ দশমিক ২১ শতাংশ।
তবে সব অপ্রচলিত বাজারে একই চিত্র দেখা যায়নি। রাশিয়ায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ৩৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ। চীনে কমেছে ১৬ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং ভারতে ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
সব মিলিয়ে জুলাই-আগস্টে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৪৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই রপ্তানি ৫ দশমিক ১২ শতাংশ বেশি। এ সময়ে নিটওয়্যার রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ওভেন পোশাক ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ।
জ্বালানি সংকটে উদ্বেগ
পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা বলছেন, রপ্তানি বাড়লেও শিল্পটি এখনো নানা ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি সংকট ও সরকারি নীতির ধারাবাহিকতার ঘাটতি উৎপাদন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, জ্বালানি সংকট ও সরকারি নীতির ধারাবাহিকতার অভাবে পোশাকশিল্প কঠিন সময় পার করছে। বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যেও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে এবং তাঁরা বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। এ অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্রয়াদেশ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক পোশাকের বাজার
এদিকে বিশ্বজুড়ে পোশাকের বাজারেও দ্রুত পরিবর্তন আসছে। আন্তর্জাতিক কটন উপদেষ্টা কমিটির (আইসিএসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালে বিশ্বের বস্ত্র রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪তম। ২০২৫ সালে দেশটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বস্ত্র রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে।
তবে একই সময়ে বিশ্ববাজারে সিনথেটিক তন্তুর ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। ফলে শুধু প্রচলিত তুলাভিত্তিক পোশাক উৎপাদনের ওপর নির্ভর না করে ক্রেতাদের পরিবর্তিত চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এখন বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। পাশাপাশি উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারেও জোর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক সূচনা দিয়েছে। তবে ইউরোপের ধীর প্রবৃদ্ধি বাজার বৈচিত্র্যকরণের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও নতুন বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির ধারাকে কাজে লাগাতে পারলে ইউরোপের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ইউরোপের বাজার ধরে রাখতে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, দ্রুত সরবরাহ, পণ্যের বৈচিত্র্য ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে হবে।
