পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দেশে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ ও মজুদ কমে যাওয়ায় দরপত্র ছাড়াই আরও ১৮ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অক্টোবর থেকে আগামী জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে দুই কার্গো করে মোট ১৮ কার্গো এলএনজি কেনা হবে।

ফরাসি বহুজাতিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে এসব এলএনজি কেনা হবে। জরুরি গ্যাসের চাহিদা পূরণে এ প্রস্তাবে বুধবার অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ...

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দেশে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ ও মজুদ কমে যাওয়ায় দরপত্র ছাড়াই আরও ১৮ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অক্টোবর থেকে আগামী জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে দুই কার্গো করে মোট ১৮ কার্গো এলএনজি কেনা হবে।

ফরাসি বহুজাতিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে এসব এলএনজি কেনা হবে। জরুরি গ্যাসের চাহিদা পূরণে এ প্রস্তাবে বুধবার অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রয়োজন হলে সরকার ও টোটাল এনার্জিসের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে অতিরিক্ত এলএনজি কার্গো কেনারও নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।

সাধারণত দরপত্র ছাড়া সরাসরি এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতির কারণে এ ধরনের সরাসরি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত একাধিকবার নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত আগস্টে দুই দফায় দরপত্র ছাড়াই মোট ২২ কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ১৯ আগস্ট সাতটি কোম্পানি থেকে দুই কার্গো করে মোট ১৪ কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে ৬ আগস্ট একইভাবে আট কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত হয়। ওই বৈঠকে দেশের আপৎকালীন এলপিজি চাহিদা পূরণ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৫ হাজার টন এলপিজি আমদানির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল।

চার মাসের জন্য বিপুল জ্বালানি কেনার উদ্যোগ

এদিকে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকেও বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি কেনার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ের জন্য কয়েকটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান থেকে ডিজেল, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েল কেনার প্রস্তাব এসেছে।

সিঙ্গাপুরের ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেড থেকে ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টন ডিজেল এবং ৫০ হাজার টন জেট ফুয়েল কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর জন্য সুপারিশ করা দর ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা।

একই সময়ের জন্য সিঙ্গাপুরের ভাইটল এশিয়া থেকে আরও ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং ৪০ হাজার টন জেট ফুয়েল কেনার প্রস্তাবে সায় দেওয়া হয়েছে। এসব জ্বালানি কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা।

এ ছাড়া ভাইটল এশিয়া থেকে আরও ৫০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টন ডিজেল কেনার প্রস্তাব এসেছে। এ ক্ষেত্রে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৯০ কোটি টাকা।

সিঙ্গাপুরের ইউনিপে সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড থেকে ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টন ডিজেল কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর জন্য সুপারিশ করা দর ৭৯২ কোটি টাকা।

অন্যদিকে ভাইটল এশিয়া থেকে ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ টন ফার্নেস অয়েল কেনার প্রস্তাবও এসেছে। এ ক্ষেত্রে সুপারিশ করা দরদাতা ট্রাফিগুরা এবং প্রস্তাবিত ব্যয় ৮০১ কোটি টাকা।

দর নিয়ে পরবর্তী বৈঠকে সিদ্ধান্ত

এসব জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত প্রিমিয়াম ও রেফারেন্স মূল্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট দরদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হওয়া দর পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় দেশে গ্যাস ও তরল জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার একদিকে দ্রুত আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে, অন্যদিকে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে সরবরাহ নিশ্চিত করার পথ বেছে নিচ্ছে।