অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক :   মিউচুয়াল ফান্ড খাতে তালিকাভুক্ত এমবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সন্দেহজনক লেনদেনের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) ফান্ডটির ইউনিটের দর ও লেনদেনের অস্বাভাবিকতার কারণ অনুসন্ধান করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনে জমা দিতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। কমিশনের মতে, ...

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : মিউচুয়াল ফান্ড খাতে তালিকাভুক্ত এমবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সন্দেহজনক লেনদেনের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) ফান্ডটির ইউনিটের দর ও লেনদেনের অস্বাভাবিকতার কারণ অনুসন্ধান করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনে জমা দিতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। কমিশনের মতে, কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য বা ব্যবসায়িক অগ্রগতির ঘোষণা ছাড়াই ফান্ডটির ইউনিটের দরে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেছে। এ কারণে এর পেছনে কোনো কারসাজি বা অন্য কোনো অনিয়ম রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুন এমবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের বাজারদর ছিল ৩ টাকা ৮০ পয়সা। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ১০ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ৭০ পয়সায়। অর্থাৎ এ সময়ে ইউনিটপ্রতি দাম বেড়েছে ৫ টাকা ৯০ পয়সা বা প্রায় ১৫৫ শতাংশ।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম আগামীর সময়কে বলেন, এমবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম ও লেনদেনে অস্বাভাবিকতা কমিশনের নজরে এসেছে। বিষয়টি স্বাভাবিক মনে না হওয়ায় এর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ডিএসইকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা অসংগতি পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কমিশনের নির্দেশনায় তদন্তের আওতায় বেশ কয়েকটি বিষয় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সমন্বিতভাবে কারসাজিমূলক লেনদেন হয়েছে কি না, কোনো অপ্রকাশিত তথ্য ব্যবহার করে ইনসাইডার ট্রেডিং হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট স্টকব্রোকার, ডিলার ও অনুমোদিত প্রতিনিধিরা মার্জিন-সংক্রান্ত বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করেছেন কি না।

এ ছাড়া সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধে কমিশনের প্রযোজ্য মার্জিন-সংক্রান্ত বিধি ও প্রজ্ঞাপন যথাযথভাবে পরিপালন করা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা ও অনুমোদিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা এবং এ ধরনের লেনদেন সম্পর্কে তাঁদের সচেতনতার বিষয়টিও তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

বিশেষভাবে অগ্রণী সিকিউরিটিজ লিমিটেড ও শেলটেক ব্রোকারেজ লিমিটেডের ভূমিকা তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের সঙ্গে জড়িত বিনিয়োগকারী ও মধ্যস্থতাকারীদের কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হবে।

বিএসইসি মনে করছে, এ ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০-এর দ্বিতীয় তফসিলের আচরণবিধির ৬ ও ৮ এবং বিধি ১১ লঙ্ঘনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য বা মৌলিক পরিবর্তনের ঘোষণা ছাড়াই মাত্র তিন মাসে একটি ফান্ডের ইউনিটের দাম ১৫৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক বাজার আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যাতে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির ফাঁদে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত কারণ প্রকাশ করা জরুরি।

এমবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ২০১১ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ‘এ’ শ্রেণিভুক্ত ফান্ডটির পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা এবং মোট ইউনিট সংখ্যা ১০ কোটি।