অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ব্যবসা সম্প্রসারণের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে সেই অর্থ ব্যবহার করেনি সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। শুধু তাই নয়, কোম্পানিটির বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুতর আপত্তি জানিয়েছেন নিরীক্ষক। ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে নিরীক্ষক বলেছেন, কোম্পানিটি নন-লাইফ বীমা সম্পদ বিনিয়োগ ও সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০১৯ অনুযায়ী বিনিয়োগ করেনি। পাশাপাশি ঋণ ও অগ্রিমের হিসাব নিয়েও নিরীক্ষক সন্তুষ্ট হতে পারেননি।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে বিভিন্ন ব্যাংকে ...

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ব্যবসা সম্প্রসারণের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে সেই অর্থ ব্যবহার করেনি সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। শুধু তাই নয়, কোম্পানিটির বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুতর আপত্তি জানিয়েছেন নিরীক্ষক। ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে নিরীক্ষক বলেছেন, কোম্পানিটি নন-লাইফ বীমা সম্পদ বিনিয়োগ ও সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০১৯ অনুযায়ী বিনিয়োগ করেনি। পাশাপাশি ঋণ ও অগ্রিমের হিসাব নিয়েও নিরীক্ষক সন্তুষ্ট হতে পারেননি।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা কোম্পানিটির স্বল্পমেয়াদি স্থায়ী আমানত বা এফডিআর। এর মধ্যে কয়েকটি আর্থিকভাবে দুর্বল ও সংকটে থাকা ব্যাংকও রয়েছে। এসব এফডিআরের অর্থ শেষ পর্যন্ত আদায় করা যাবে কি না, সে বিষয়ে ব্যবস্থাপনার বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন নিরীক্ষক।

২০২৫ সালের শেষে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সিকদার ইন্স্যুরেন্সের এফডিআর ছিল ২২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। আগের বছর এ পরিমাণ ছিল ২২ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০ কোটি ৮১ লাখ টাকা রাখা হয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংকে। এ ছাড়া এক্সিম ব্যাংকে ২ কোটি ৪৭ লাখ, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে ১ কোটি ৩৯ লাখ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে ৯৭ লাখ, সাউথইস্ট ব্যাংকে ১ কোটি, ইউনিয়ন ব্যাংকে ১০ লাখ, এবি ব্যাংকে ৫০ লাখ এবং বাংলাদেশ কমার্শিয়াল ব্যাংকে ৯ লাখ টাকা এফডিআর রয়েছে।

আরও পড়ুন...

চার্টার্ড লাইফে মুনাফার চেয়ে অনিয়ম বেশি

২৭১ কোটি টাকার বীমা দাবি পরিশোধে অক্ষম, ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা নিরীক্ষকের

এদিকে শেয়ারবাজারেও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে কোম্পানিটির। ২০২৫ সালের শেষে ১৬ কোটি ১৬ লাখ ৭৬ হাজার ৫৭টি শেয়ার ধরে এসব বিনিয়োগের ব্যয় দেখানো হয়েছে ১১০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। বিপরীতে বছরের শেষে এসব শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৮৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। অর্থাৎ শেয়ার বিনিয়োগের ব্যয়ের তুলনায় বাজারমূল্য প্রায় ২৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা কম।

ফলে কোম্পানিটির শেয়ারবাজারে করা বিনিয়োগে বড় ধরনের অবমূল্যায়ন বা লোকসানের চাপ তৈরি হয়েছে। আর্থিক প্রতিবেদনেও এর প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে।

কোম্পানির কর্মীদের ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিপিএফ) নিয়েও নিরীক্ষকের দৃষ্টি আকর্ষণ রয়েছে। ২০২৫ সালে এ তহবিলে নতুন করে কোনো অর্থ সংরক্ষণ করা হয়নি। আগের সংরক্ষিত ৭৯ লাখ টাকাও বিতরণ করা হয়নি।

এ বিষয়ে কোম্পানি জানিয়েছে, বীমা খাতে ডব্লিউপিপিএফের প্রয়োগ নিয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে। এ কারণে ২০২৫ সালে নতুন করে কোনো অর্থ সংরক্ষণ করা হয়নি।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে শেয়ারবাজার থেকে সংগ্রহ করা আইপিওর অর্থ নিয়ে। নিরীক্ষক জানিয়েছেন, আগের বছর কোম্পানিটি আইপিওর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে। ওই অর্থ ব্যবহারের জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা ব্যবহার করা হয়নি।

অর্থাৎ একদিকে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা না মানার অভিযোগ, অন্যদিকে দুর্বল ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা এফডিআর এবং আইপিওর অর্থ নির্ধারিত সময়ে ব্যবহার না করার বিষয়টি কোম্পানিটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এসব বিষয়ে জানতে সিকদার ইন্স্যুরেন্সের কোম্পানি সচিব আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।