বৈধ ব্র্যান্ডরোলের পাশাপাশি ব্যবহৃত ও নকল ব্র্যান্ডরোল ব্যবহার করে গোপনে সিগারেট উৎপাদন এবং মূসক চালান ছাড়াই বাজারজাতের মাধ্যমে প্রায় ৭২ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পেয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গাজীপুরের কাউলতিয়ায় ভার্গো টোব্যাকো লিমিটেডের কারখানা, গুদাম ও আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গত ১৪ সেপ্টেম্বর মূল্য সংযোজন কর ও ...

বৈধ ব্র্যান্ডরোলের পাশাপাশি ব্যবহৃত ও নকল ব্র্যান্ডরোল ব্যবহার করে গোপনে সিগারেট উৎপাদন এবং মূসক চালান ছাড়াই বাজারজাতের মাধ্যমে প্রায় ৭২ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পেয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গাজীপুরের কাউলতিয়ায় ভার্গো টোব্যাকো লিমিটেডের কারখানা, গুদাম ও আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গত ১৪ সেপ্টেম্বর মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এবং সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী মামলাটি করা হয়। মামলার নম্বর ১৭/২০২৬।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২ সেপ্টেম্বর ভার্গো টোব্যাকোর কারখানায় আকস্মিক অভিযান চালায় ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের ঢাকা কার্যালয়ের প্রতিরোধমূলক দল। একই সময়ে দুটি দল কারখানা ও এর কাছাকাছি একটি গুদামে অভিযান চালায়।

অভিযানের সময় কারখানার প্রধান ফটক বাইরে থেকে বন্ধ ছিল। ভেতরে উৎপাদন চললেও কর্মকর্তাদের বারবার অনুরোধের পরও ফটক খোলা হয়নি। পরে দেয়াল টপকে কর্মকর্তারা কারখানার ভেতরে প্রবেশ করেন।

অভিযানে প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক লিখিত বিবৃতিতে প্রায় ৫০ লাখ শলাকা নকল ব্র্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পুড়িয়ে ফেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে পোড়া ব্র্যান্ডরোলের অবশিষ্টাংশ জব্দ করে ভ্যাট গোয়েন্দারা।

এ ছাড়া কারখানা, গুদাম ও আবাসিক ভবনে তল্লাশি চালিয়ে ব্যবহৃত স্ট্যাম্প ও ব্র্যান্ডরোল, সিগারেট উৎপাদনের বিভিন্ন কাঁচামাল এবং তিনটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়। কয়েকটি বিদেশি ব্র্যান্ডের সিগারেটের নমুনা ও খালি প্যাকেটও পাওয়া যায়। এসব বিষয়ে আরও অনুসন্ধান চলছে।

জব্দ করা আলামত, নথি ও মুঠোফোন থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ভ্যাট গোয়েন্দারা প্রাথমিকভাবে দেখতে পান, প্রতিষ্ঠানটি বৈধ স্ট্যাম্প ও ব্র্যান্ডরোলের পাশাপাশি ব্যবহৃত স্ট্যাম্প ও ব্র্যান্ডরোল ব্যবহার করে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করছিল।

অধিদপ্তরের প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদিত সিগারেটের একটি বড় অংশ কোনো মূসক চালান বা মূসক-৬.৩ ছাড়াই বাজারে সরবরাহ করে আসছিল। এসব বিক্রির তথ্য প্রতিষ্ঠানের মূল হিসাবেও গোপন রাখা হয়েছিল বলে অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে।

জব্দ করা পণ্য, নথি ও মুঠোফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিক হিসাবে সরকারের প্রাপ্য মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ প্রায় ৭২ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।