আইপিও অর্থে অনিয়ম, ১১ জনকে জরিমানা
প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ নির্ধারিত খাতে ব্যবহার না করা, সময়মতো অর্থ ব্যয় না করা এবং অনুমোদন ছাড়া খাত পরিবর্তনের ঘটনায় সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ১১ জনকে জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোম্পানিটির ৯ পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং কোম্পানি সচিবকে ১ লাখ টাকা করে মোট ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সম্প্রতি এ বিষয়ে আদেশ জারি করেছে বিএসইসি। কমিশনের তদন্তে আইপিওর অর্থ ব্যবহারে ...
প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ নির্ধারিত খাতে ব্যবহার না করা, সময়মতো অর্থ ব্যয় না করা এবং অনুমোদন ছাড়া খাত পরিবর্তনের ঘটনায় সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ১১ জনকে জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোম্পানিটির ৯ পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং কোম্পানি সচিবকে ১ লাখ টাকা করে মোট ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সম্প্রতি এ বিষয়ে আদেশ জারি করেছে বিএসইসি। কমিশনের তদন্তে আইপিওর অর্থ ব্যবহারে একাধিক অনিয়মের তথ্য উঠে আসে।
সিকদার ইন্স্যুরেন্স ২০২৩ সালে আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। ওই বছরের ২২ নভেম্বর কোম্পানিটিকে আইপিওর সম্মতিপত্র দেওয়া হয়। পরে ২১ থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত আইপিওর চাঁদা গ্রহণ করা হয়। উত্তোলিত অর্থ ২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারি ন্যাশনাল ব্যাংকের এসক্রো হিসাবে জমা দেওয়া হয়।
প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, ১৬ কোটি টাকার মধ্যে ৪ কোটি টাকা ব্যাংকে স্থায়ী আমানত বা এফডিআর, ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ, ৬ কোটি ৮ লাখ ৭১ হাজার টাকা ফ্লোর ক্রয় এবং ১ কোটি ১১ লাখ ২৮ হাজার টাকা আইপিও-সংক্রান্ত ব্যয়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এসব অর্থ তিন মাসের মধ্যে ব্যবহারের কথা ছিল।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ব্যবহারে ব্যর্থ হয় কোম্পানিটি। এফডিআরের জন্য নির্ধারিত ৪ কোটি টাকার পরিবর্তে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়। কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আইপিও ব্যয়ের খাত থেকে ২০ লাখ টাকা স্থানান্তর করে অতিরিক্ত অর্থ এফডিআরে বিনিয়োগ করা হয়েছিল।
কিন্তু আইপিওর অর্থের খাত পরিবর্তনের আগে শেয়ারহোল্ডারদের অন্তত ৫১ শতাংশের অনুমোদন নেওয়ার শর্ত ছিল। কোম্পানিটি এ অনুমোদন না নিয়েই অর্থ স্থানান্তর করে। ফলে বিষয়টিকে শর্ত লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করেছে বিএসইসি।
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য নির্ধারিত ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকার মধ্যে কোম্পানিটি বিনিয়োগ করে ৩ কোটি টাকা। ফলে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা অব্যবহৃত থাকার কথা উঠে এসেছে কমিশনের তদন্তে। কোম্পানি জানিয়েছে, ন্যাশনাল ব্যাংকের তারল্য সংকটের কারণে দুটি চেক ফেরত যায়। এছাড়া ৪০ লাখ টাকার একটি পে-অর্ডার আটকে থাকায় নির্ধারিত বিনিয়োগ করা সম্ভব হয়নি। তবে কোম্পানির এ ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি বিএসইসি।
এদিকে ফ্লোর ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ ৬ কোটি ৮ লাখ ৭১ হাজার টাকার কোনো অর্থই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবহার করা হয়নি। পরে ওই অর্থ সরকারি ট্রেজারি বিলসে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় কোম্পানির পর্ষদ। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডাররা এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। তবে তদন্তের সময় পর্যন্ত নির্ধারিত খাতে অর্থ ব্যবহার না হওয়ায় এটিকেও শর্ত লঙ্ঘন হিসেবে দেখেছে কমিশন।
আইপিও ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ ১ কোটি ১১ লাখ ২৮ হাজার টাকার মধ্যে ব্যয় করা হয় ৯০ লাখ টাকা। বাকি ২১ লাখ ২৮ হাজার টাকা অব্যবহৃত থাকে। এর মধ্যে ২১ লাখ টাকা এফডিআরে বিনিয়োগ করা হলেও এ ক্ষেত্রেও আগাম অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
এসব বিষয়ে ২০২৬ সালের ৮ জুন বিএসইসির শুনানিতে কোম্পানির কর্মকর্তারা তাদের ব্যাখ্যা দেন। তবে ওই ব্যাখ্যা সন্তোষজনক মনে করেনি কমিশন। আইপিও তহবিল ব্যবহারের নির্ধারিত শর্ত না মানাকে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে বিএসইসি।
এ কারণে কোম্পানির চেয়ারম্যান নাসিম সিকদার, ভাইস চেয়ারম্যান মামতাজুল হক সিকদার, পরিচালক লিসা ফাতেমা হক সিকদারসহ ৯ পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও শেখ আবদুর রফিক এবং কোম্পানি সচিব আবদুর রাজ্জাককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, জরিমানার অর্থ ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে কমিশনে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে সিকিউরিটিজ আইনের আওতায় পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
