জ্বালানি সংকটের বড় ধাক্কা লেগেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার সঞ্চালন লাইন নির্মাণ প্রকল্পে। জ্বালানির অপ্রতুলতার পাশাপাশি প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এবারও নতুন করে ব্যয় না বাড়লেও প্রকল্পের মেয়াদ দ্বিতীয় দফায় আরও ছয় মাস বাড়ানো হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সামগ্রিক প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, ‘যমুনা ...

জ্বালানি সংকটের বড় ধাক্কা লেগেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার সঞ্চালন লাইন নির্মাণ প্রকল্পে। জ্বালানির অপ্রতুলতার পাশাপাশি প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এবারও নতুন করে ব্যয় না বাড়লেও প্রকল্পের মেয়াদ দ্বিতীয় দফায় আরও ছয় মাস বাড়ানো হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সামগ্রিক প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, ‘যমুনা ও পদ্মা নদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ইভ্যাকুয়েশন সংশ্লিষ্ট ৪০০ কেভি ও ২৩০ কেভি রিভার ক্রসিং সঞ্চালন লাইন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের বাস্তবায়নে নানা প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মারুখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্টিয়ারিং কমিটির সভায় কাজের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।

সভার বিবরণী থেকে জানা যায়, যমুনা নদীর মাঝপথে বিশাল আকারের টাওয়ার ফাউন্ডেশন ও প্রাসঙ্গিক কারিগরি কাজ পরিচালনায় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে ক্রেন বার্জ, টাগ বোট, অ্যাঙ্কর বোট, ডিজেল জেনারেটর এবং কাটার সাকশন ড্রেজার। এসব যন্ত্রপাতি সচল রাখতে দৈনিক গড়ে ৬ থেকে ৭ হাজার লিটার এবং সপ্তাহে প্রায় ৫০ হাজার লিটার হাই-স্পিড ডিজেলের (এইচএসডি) প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র অপ্রতুলতা দেখা দিলে প্রকল্পের নির্মাণস্থলে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ করা যায়নি। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ের মূল ভিত্তিস্থাপন বা ফাউন্ডেশন তৈরির কাজ মারাত্মকভাবে থমকে যায়।

জ্বালানি সংকটের ধকল সামলে ওঠার আগেই মে মাসে যমুনা নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। পরবর্তীতে বর্ষা মৌসুমে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি প্রত্যাশিত সময়ের আগেই বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। ফলে টাওয়ারের পাইল ক্যাপ, বিম নির্মাণ এবং টাওয়ার ইরেকশনের জন্য উপযুক্ত কর্মমৌসুম বেশ সংকুচিত হয়ে পড়ে। এ কারণেই নদীর ভেতরের ও তীরবর্তী অংশের মূল কাজগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি।

পরিস্থিতি বিবেচনায় স্কিম পরিচালক ৩১ মার্চ ২০২৭ তারিখের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে একটি বিস্তারিত ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা (অ্যাকশন প্ল্যান) জমা দিয়েছেন।

৬ হাজার ৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সঞ্চালন লাইন প্রকল্পের সরকারি তহবিল থেকে জোগানো হচ্ছে ৪ হাজার ৫৪২ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিবি) দিচ্ছে ১ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা। ২০২২ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের প্রাথমিক সময়সীমা ছিল ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত। পরবর্তীতে তা এক বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। তবে নতুন প্রস্তাবে আরও ছয় মাস বাড়িয়ে চূড়ান্ত মেয়াদ ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হচ্ছে।

এই স্কিমের আওতায় রূপপুর-ঢাকা ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট রিভার ক্রসিংয়ের ৭ কিলোমিটার, পদ্মা নদীতে রূপপুর-গোপালগঞ্জ ৪০০ কেভি সিঙ্গেল সার্কিট রিভার ক্রসিংয়ের ২ কিলোমিটার এবং যমুনা নদীতে রূপপুর-ধামরাই ২৩০ কেভি ডাবল সার্কিট রিভার ক্রসিংয়ের ৭ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এদিকে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশিদ খান বৈঠকে জানান, ঠিকাদারের সাথে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী 'প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্ট' বা মূল্য সমন্বয়ের হিসাব ঋণাত্মক (নেগেটিভ) হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়ার গ্রিড টাকা ফেরত পাবে। এছাড়া কাজের বিলম্বের পেছনের কারণগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যদি কোনো যুক্তিসংগত বা অনিবার্য কারণ ছাড়া ঠিকাদার কাজ ঝুলিয়ে রেখে থাকে, তবে চুক্তির ধারা অনুযায়ী তাদের ওপর ‘লিকুইডেটেড ড্যামেজ’ বা বিলম্ব জরিমানা আরোপ করা হবে।