অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক :   শেয়ারবাজারের লেনদেনব্যবস্থা, নতুন আর্থিক পণ্য, মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামোয় একসঙ্গে একাধিক পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এর মধ্যে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে টি+১ সেটেলমেন্ট ও স্ক্রিপ্ট নেটিং চালুর লক্ষ্য রয়েছে। আর ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে আর্থিক ডেরিভেটিভস ও নতুন ট্রেড ম্যাচিং ইঞ্জিন চালুর পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

মঙ্গলবার ডিএসইর এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার।

তিনি বলেন, টি+১ সেটেলমেন্ট ও ...

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারের লেনদেনব্যবস্থা, নতুন আর্থিক পণ্য, মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামোয় একসঙ্গে একাধিক পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এর মধ্যে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে টি+১ সেটেলমেন্ট ও স্ক্রিপ্ট নেটিং চালুর লক্ষ্য রয়েছে। আর ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে আর্থিক ডেরিভেটিভস ও নতুন ট্রেড ম্যাচিং ইঞ্জিন চালুর পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

মঙ্গলবার ডিএসইর এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার।

তিনি বলেন, টি+১ সেটেলমেন্ট ও স্ক্রিপ্ট নেটিং চালুর কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও নির্দেশনাও পাওয়া যাচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে এ দুটি ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে নতুন আর্থিক পণ্য চালুর আগে বাজারের প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ডিএসই। নুজহাত আনোয়ার বলেন, আর্থিক ডেরিভেটিভস চালুর জন্য বিনিয়োগকারী ও বাজারসংশ্লিষ্টদের সচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি দরকার। এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে ডেরিভেটিভস চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে শেয়ারবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন বাড়াতেও পৃথক প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ করছে ডিএসই। বর্তমান বিধিবিধানের আওতায় ওপেন-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য আলাদা এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে। নভেম্বরের মধ্যে প্ল্যাটফর্মটি চালু করার আশা করছে ডিএসই। এতে বিনিয়োগকারীরা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মিউচুয়াল ফান্ডে লেনদেন করতে পারবেন।

বন্ড মার্কেট উন্নয়নেও কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান ডিএসইর এমডি। তিনি বলেন, বন্ডের মূল্যসংক্রান্ত ব্যয় প্রায় ৮০ শতাংশ কমানো হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে ইস্যু হতে যাওয়া বন্ডগুলোকে মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

ডিএসইর পক্ষ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বন্ডের দ্বিতীয় বাজারে লেনদেনে উৎসাহিত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। নুজহাত আনোয়ার বলেন, কয়েকটি বন্ড মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে দ্বিতীয় বাজারে বন্ডের লেনদেন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছে ডিএসই।

অন্যদিকে প্রযুক্তিগত অবকাঠামোতেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে। নাসডাকের নতুন ট্রেড ম্যাচিং ইঞ্জিন স্থাপনের প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে নতুন এই ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য রয়েছে।

এ ছাড়া ডিএসইর দুর্যোগকালীন তথ্য পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা বা ডিজাস্টার রিকভারি সিস্টেম ডিসেম্বরের মধ্যে হালনাগাদ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাজারের প্রযুক্তিগত অবকাঠামোকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে অন্যান্য প্রকল্পের কাজও চলছে বলে জানান ডিএসইর এমডি।

শিল্পভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস ও শ্রেণি পুনর্বিন্যাসের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ডিএসইর পর্ষদের অনুমোদনের পর এ বিষয়ে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।