খেলাধুলা ডেস্ক :   ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর প্রায় ছয় বছর পর তাঁর মৃত্যু নিয়ে চলা মামলায় নতুন তত্ত্ব সামনে এসেছে। আদালতের শেষ সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেওয়া সরকারি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ পাবলো ফেরারি বলেছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েও আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ময়নাতদন্তের সময় কোভিড-১৯ পরীক্ষা না করাকে তিনি ‘পদ্ধতিগত ভুল’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।

২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে মারা যান ম্যারাডোনা। মৃত্যুর সময় বুয়েনস এইরেসের উপকণ্ঠের একটি বাড়িতে চিকিৎসাধীন ছিলেন ...

খেলাধুলা ডেস্ক : ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর প্রায় ছয় বছর পর তাঁর মৃত্যু নিয়ে চলা মামলায় নতুন তত্ত্ব সামনে এসেছে। আদালতের শেষ সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেওয়া সরকারি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ পাবলো ফেরারি বলেছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েও আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ময়নাতদন্তের সময় কোভিড-১৯ পরীক্ষা না করাকে তিনি ‘পদ্ধতিগত ভুল’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।

২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে মারা যান ম্যারাডোনা। মৃত্যুর সময় বুয়েনস এইরেসের উপকণ্ঠের একটি বাড়িতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে।

মামলার ৪৪তম শুনানিতে সাক্ষ্য দেন ফেরারি। এর আগে ৪৩টি শুনানিতে ৭৬ জন সাক্ষ্য দিলেও কেউ ম্যারাডোনার মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে কোভিড-১৯-এর কথা বলেননি।

আদালতে ফেরারি বলেন, করোনাভাইরাস শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এমনকি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেও এতে মৃত্যু হতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা উড়িয়ে দিতে পারি না যে তিনি কোভিডে মারা গেছেন।’

ফেরারির বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ম্যারাডোনার মৃত্যুর আগে তাঁর কতটা সময় ধরে শারীরিক যন্ত্রণা হয়েছিল—এ নিয়েও তিনি আগের সরকারি বিশেষজ্ঞদের মতের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।

মৃত্যুর আগে কতক্ষণ যন্ত্রণায় ছিলেন ম্যারাডোনা

ফেরারির মতে, ম্যারাডোনার ফুসফুসে অল্প সময়ের মধ্যেই তরল জমে যেতে পারে। কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়ে তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। এরপর হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হতে পারে।

এর আগে মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া অন্য সরকারি বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, মৃত্যুর আগে ম্যারাডোনা প্রায় ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত যন্ত্রণায় ছিলেন। তবে আসামিপক্ষের বিশেষজ্ঞরা শুরু থেকেই আকস্মিক মৃত্যুর সম্ভাবনার কথা বলে আসছেন।

সরকারি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ফেরারিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি আকস্মিক মৃত্যুর এই ব্যাখ্যাকে সমর্থন করেছেন।

লুকের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে এই সাক্ষ্য

ফেরারির বক্তব্য ম্যারাডোনার চিকিৎসক লিওপোলদো লুকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মৃত্যুর সময় ম্যারাডোনার চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন লুক। তাঁর পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তি ছিল, ম্যারাডোনার ফুসফুসে হঠাৎ তরল জমে তীব্র শ্বাসকষ্ট তৈরি হয়েছিল এবং এরপরই তাঁর হৃদ্‌যন্ত্র বন্ধ হয়ে যায়।

২০২৫ সালে লুকের অনুরোধে করা একটি বিশেষজ্ঞ পরীক্ষার সঙ্গেও ফেরারি যুক্ত ছিলেন।

ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় লুক ছাড়াও আরও ছয়জন চিকিৎসাকর্মীর বিচার চলছে। তাঁরা হলেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আগুস্তিনা কোসাচভ, বাড়িতে চিকিৎসার সমন্বয়কারী ন্যান্সি ফোরলিনি, মনোবিজ্ঞানী কার্লোস দিয়াজ, নার্সিং সমন্বয়কারী মারিয়ানো পেরোনি, নার্স রিকার্দো আলমিরন এবং চিকিৎসক পেদ্রো দি স্পানিয়া।

তাঁদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পরিণতি জেনেও অবহেলার মাধ্যমে সাধারণ হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

শেষ পর্যায়ে বিচার

ম্যারাডোনার মৃত্যু মামলার বিচার এখন শেষ পর্যায়ে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর আসামিদের বক্তব্য আরও বিস্তারিতভাবে শোনার কথা রয়েছে। এরপর ৬ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক।

চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যেই বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে আদালতের।