অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে টানা দরপতনের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ থেকে মুখ ফিরিয়ে তুলনামূলক নিরাপদ সঞ্চয় প্রকল্পের দিকে ঝুঁকছেন ভারতের বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ। এ ক্ষেত্রে ডাকঘরের বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্পের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট (এনএসসি) ও কিসান বিকাশ পত্র (কেভিপি) অন্যতম।

বর্তমানে এনএসসিতে বার্ষিক ৭ দশমিক ৭ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে কেভিপির সুদের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে দুই প্রকল্পের মেয়াদ ও বিনিয়োগের রিটার্ন পাওয়ার ...

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে টানা দরপতনের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ থেকে মুখ ফিরিয়ে তুলনামূলক নিরাপদ সঞ্চয় প্রকল্পের দিকে ঝুঁকছেন ভারতের বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ। এ ক্ষেত্রে ডাকঘরের বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্পের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট (এনএসসি) ও কিসান বিকাশ পত্র (কেভিপি) অন্যতম।

বর্তমানে এনএসসিতে বার্ষিক ৭ দশমিক ৭ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে কেভিপির সুদের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে দুই প্রকল্পের মেয়াদ ও বিনিয়োগের রিটার্ন পাওয়ার পদ্ধতিতে পার্থক্য রয়েছে।

এনএসসিতে পাঁচ বছরের জন্য টাকা বিনিয়োগ করা যায়। উদাহরণ হিসেবে, কেউ এক লাখ টাকা এনএসসিতে বিনিয়োগ করলে পাঁচ বছর পর তিনি প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯০০ টাকা পাবেন। অর্থাৎ পাঁচ বছরে সুদ বাবদ আয় হবে প্রায় ৪৪ হাজার ৯০০ টাকা।

অন্যদিকে, কেভিপিতে বিনিয়োগ করা এক লাখ টাকা ১১৫ মাস বা ৯ বছর ৭ মাসে দ্বিগুণ হয়ে দুই লাখ টাকা হয়। অর্থাৎ কেভিপিতে বিনিয়োগ করলে মূলধন দ্বিগুণ হতে সময় লাগে তুলনামূলক বেশি।

তবে শুধু সুদের হার দিয়ে দুই প্রকল্পের তুলনা করলে পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। এনএসসির মেয়াদ পাঁচ বছর হওয়ায় তুলনামূলক কম সময়ে বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে কেভিপিতে দীর্ঘ সময় অর্থ আটকে থাকে। ফলে বিনিয়োগের মেয়াদ ও অর্থের প্রয়োজনের সময় বিবেচনা করে প্রকল্প বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

কর সুবিধার ক্ষেত্রেও রয়েছে পার্থক্য। ভারতের পুরোনো আয়কর কাঠামোয় আয়কর আইনের ৮০সি ধারার আওতায় এনএসসিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে করছাড়ের সুবিধা পাওয়া যায়। কেভিপিতে এ ধরনের সুবিধা নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো সঞ্চয় প্রকল্পে বিনিয়োগের আগে ব্যক্তির আর্থিক অবস্থা, ভবিষ্যৎ অর্থের প্রয়োজন, ঋণের পরিমাণ এবং পারিবারিক দায়দায়িত্ব বিবেচনা করা উচিত। একই সঙ্গে বিনিয়োগের সময় সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বর্তমান সুদের হার, মেয়াদ ও করসংক্রান্ত নিয়ম ভালোভাবে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।