জনতা ব্যাংকের বোর্ড ভাঙার উদ্যোগ
রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কমিটি ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখা ও বিদেশি কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম, জালিয়াতি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার তথ্য পাওয়ার পর এ পদক্ষেপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে এসেছে, জনতা ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারে ১০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে অদাবিকৃত আমানত শনাক্তের ব্যবস্থা নেই। ফলে ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অদাবিকৃত আমানতের সঠিক তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে না। ২০২৫ ...
রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কমিটি ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখা ও বিদেশি কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম, জালিয়াতি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার তথ্য পাওয়ার পর এ পদক্ষেপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে এসেছে, জনতা ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারে ১০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে অদাবিকৃত আমানত শনাক্তের ব্যবস্থা নেই। ফলে ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অদাবিকৃত আমানতের সঠিক তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে না। ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর ব্যাংকের ৫৮টি শাখার ৪৮৮টি হিসাবে ১০ বছর বা তার বেশি সময়ের অদাবিকৃত আমানতের পরিমাণ ছিল ৯৪ কোটি টাকা।
পরিদর্শনে বৈদেশিক লেনদেনেও বড় ধরনের অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। নস্ট্রো হিসাব থেকে অর্থ পরিশোধের পর নিয়ম অনুযায়ী গ্রাহকের নামে ডিমান্ড লোন সৃষ্টি করা হয়নি। এর ফলে বেক্সিমকো গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে প্রায় ৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা এবং ওরিয়ন অয়েল অ্যান্ড শিপিংয়ের ক্ষেত্রে প্রায় ৪৭০ কোটি টাকা সুদ আদায়ের সুযোগ হারিয়েছে ব্যাংক। সব মিলিয়ে প্রায় ৮ হাজার ২৭০ কোটি টাকা সুদ আদায় হয়নি বলে পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে ব্যাংকের কার্যক্রমে শ্রেণিকৃত ঋণ, অনুমোদনের চেয়ে বেশি ব্যয় এবং অস্তিত্বহীন ল্যাপটপ কেনার তথ্যও পাওয়া গেছে। ২০২০ সালে ছয়টি ল্যাপটপ কেনা হলেও পরিদর্শনের সময় সেগুলোর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বিদেশে অনুমোদন ছাড়া তিন ভারতীয় নাগরিককে নিয়োগের তথ্যও প্রতিবেদনে রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তের পর জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কমিটি ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে গতকাল বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়নি।
জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের উত্থাপিত বিষয়গুলোর জবাব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে আরও আলোচনা করে বিস্তারিত জবাব দেওয়া হবে। নস্ট্রো হিসাবের অনিয়ম সিস্টেমের ত্রুটির কারণে হয়েছে বলেও তিনি জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, দেশে বা বিদেশে কোথাও অনিয়ম হলে বাংলাদেশ ব্যাংক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
