শেয়ার পার্কিং ও সফটওয়্যারে কারসাজির অভিযোগ
শেয়ার পার্কিং, গ্রাহকদের অতিরিক্ত ক্রয়ক্ষমতা দেখানো, শেয়ার না কিনেই অর্থ উত্তোলন এবং লেনদেন ব্যবস্থার সফটওয়্যারে অনুমোদন ছাড়া পরিবর্তনের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ব্রোকারেজ হাউজ যমুনা ব্যাংক ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
কমিশনের মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের সাম্প্রতিক এক আদেশে এ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে গত ১২ জুলাই ...
শেয়ার পার্কিং, গ্রাহকদের অতিরিক্ত ক্রয়ক্ষমতা দেখানো, শেয়ার না কিনেই অর্থ উত্তোলন এবং লেনদেন ব্যবস্থার সফটওয়্যারে অনুমোদন ছাড়া পরিবর্তনের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ব্রোকারেজ হাউজ যমুনা ব্যাংক ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
কমিশনের মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের সাম্প্রতিক এক আদেশে এ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে গত ১২ জুলাই ও ১৮ আগস্ট পৃথক দুটি অভিযোগ পাওয়ার পর এসব অভিযোগের সার্বিক তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তদন্ত কমিটিকে যমুনা ব্যাংক ক্যাপিটালের মার্জিন ঋণ, গ্রাহক হিসাব, শেয়ার লেনদেন এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ার ও গ্রাহক কোডের মাধ্যমে সংঘটিত লেনদেনে কোনো ধরনের অনিয়ম, কারসাজি বা অবৈধ আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।
বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯-এর সেকশন ২১ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ধারা ১৭(ক)-এর ক্ষমতাবলে এ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন কমিশনের অতিরিক্ত পরিচালক মুহাম্মদ আল মাসুম মৃধা, সহকারী পরিচালক সৌরভ মল্লিক এবং মো. মারুফ হাসান। কমিটিকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
যেসব অনিয়মের অভিযোগ
তদন্তের অন্যতম বিষয় হচ্ছে যমুনা ব্যাংক ক্যাপিটালের গ্রাহকদের মার্জিন ঋণসুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে আইন ও বিএসইসির নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না। একই সঙ্গে ঋণ হিসাব পরিচালনা, গ্রাহক কোড ব্যবস্থাপনা এবং ঋণাত্মক স্থিতির গ্রাহক কোড ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অনিয়ম হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।
স্পনসর বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিক্রয় নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা শেয়ারের বিপরীতে কোনো গ্রাহককে সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকের হিসাবে প্রকৃত সামর্থ্যের চেয়ে বেশি ক্রয়ক্ষমতা দেখানো, বাজারদর ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো এবং শেয়ার না কিনেই অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখবে কমিটি।
এ ছাড়া ঋণাত্মক স্থিতির হিসাবে লেনদেন করা হয়েছে কি না, সেই হিসাবে কেনার অনুপযোগী শেয়ার কেনা হয়েছে কি না এবং এসব প্রক্রিয়ায় কোনো গ্রাহককে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করা হবে।
নির্দিষ্ট কয়েকটি শেয়ারের লেনদেনও তদন্তে
বিএসইসির তদন্তের আওতায় রয়েছে বিচ হ্যাচারি, মিডল্যান্ড ব্যাংক, রাঙামাটি ফুড প্রোডাক্টস, ফরচুন সুজ, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং ও সিমটেক্সসহ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার এবং সংশ্লিষ্ট গ্রাহক কোড।
এসব শেয়ারের লেনদেনে শেয়ার পার্কিংয়ের ঘটনা ঘটেছে কি না, সম্ভাব্য বাজার কারসাজি করা হয়েছে কি না এবং উচ্চমূল্যে শেয়ার কেনার মাধ্যমে কোনো পক্ষকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না— তা খতিয়ে দেখা হবে।
পাশাপাশি প্লেসমেন্ট শেয়ার বরাদ্দ, বিপণন ও বিক্রির প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম ছিল কি না, কমিশন গ্রহণ বা অবৈধ আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে কি না এবং অতিরিক্ত ক্রয়ক্ষমতা ব্যবহার করে কোনো পক্ষ আর্থিক সুবিধা নিয়েছে কি না, সেসব বিষয়ও তদন্ত করবে কমিটি।
সফটওয়্যারে কারসাজির অভিযোগ
তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ব্রোকারেজ হাউজটির সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাকে। প্রতিষ্ঠানটির লেনদেন সফটওয়্যার, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় অনুমোদন ছাড়া কোনো পরিবর্তন করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করা হবে।
বিশেষ করে সফটওয়্যারে কারসাজি বা অননুমোদিত পরিবর্তনের মাধ্যমে কোনো গ্রাহকের জন্য অতিরিক্ত ক্রয়ক্ষমতা তৈরি, শেয়ার লেনদেনের সুযোগ দেওয়া কিংবা অর্থ উত্তোলনের সুবিধা তৈরি করা হয়েছিল কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। এ ক্ষেত্রে সফটওয়্যারের তথ্য, লেনদেনের রেকর্ড ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করবে তদন্ত কমিটি।
ব্যবস্থাপনার দায়ও খতিয়ে দেখা হবে
শুধু লেনদেনের অনিয়ম নয়, এসব ঘটনায় যমুনা ব্যাংক ক্যাপিটালের কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, তদারকি এবং নিজস্ব তদন্ত বা নজরদারিতে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা যাচাই করা হবে।
এসব অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট গ্রাহক বা শেয়ারবাজারের কোনো আর্থিক কিংবা নিয়ন্ত্রক ক্ষতি হয়েছে কি না, সেটিও নির্ধারণ করবে তদন্ত কমিটি। তদন্ত চলাকালে নতুন কোনো অনিয়ম বা আইন লঙ্ঘনের তথ্য পাওয়া গেলে সেটিও তদন্তের আওতায় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।
তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা বা কোনো পক্ষের দায় নিশ্চিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।
