কেনিয়ায় ১৬ বিলিয়ন ডলারের তেল শোধনাগার
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : কেনিয়ায় ১৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নতুন তেল শোধনাগার ও পেট্রোরসায়নকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন আফ্রিকার শীর্ষ ধনকুবের আলিকো ডাঙ্গোটে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডিয়া লিমিটেডকে (ইআইএল) নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলতি সেপ্টেম্বরেই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
মুম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জে দেওয়া এক নথিতে ইআইএল জানিয়েছে, ডাঙ্গোটের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ৪৫ কোটি ডলারের একটি চুক্তি হয়েছে। চুক্তির আওতায় কেনিয়ার উপকূলীয় শহর লামুতে দৈনিক ৭ লাখ ...
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : কেনিয়ায় ১৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নতুন তেল শোধনাগার ও পেট্রোরসায়নকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন আফ্রিকার শীর্ষ ধনকুবের আলিকো ডাঙ্গোটে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডিয়া লিমিটেডকে (ইআইএল) নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলতি সেপ্টেম্বরেই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
মুম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জে দেওয়া এক নথিতে ইআইএল জানিয়েছে, ডাঙ্গোটের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ৪৫ কোটি ডলারের একটি চুক্তি হয়েছে। চুক্তির আওতায় কেনিয়ার উপকূলীয় শহর লামুতে দৈনিক ৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা সম্পন্ন একটি শোধনাগার ও পেট্রোরসায়নকেন্দ্র নির্মাণে কাজ করবে ইআইএল।
ইআইএলের মতে, প্রকল্পটি চালু হলে পূর্ব আফ্রিকায় জ্বালানি উৎপাদন বাড়বে এবং জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারেও প্রকল্পটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।
নতুন এই প্রকল্পটি ডাঙ্গোটের আফ্রিকায় জ্বালানি ব্যবসা সম্প্রসারণের বড় পরিকল্পনার অংশ। এর আগে তিনি লাওসে একটি বড় তেল শোধনাগার নির্মাণ করেছেন। সেই শোধনাগারের সক্ষমতা ২০২৯ সালের মধ্যে দ্বিগুণ করে দৈনিক ১৪ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডাঙ্গোটে চলতি মাসেই জানিয়েছেন, কেনিয়ার শোধনাগারটির নির্মাণকাজ সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ শুরু হবে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পূর্ব আফ্রিকার জ্বালানি খাতে ডাঙ্গোটে গ্রুপের উপস্থিতি আরও বাড়বে।
শোধনাগার নির্মাণের পাশাপাশি লামুকে ইথিওপিয়ার সঙ্গে যুক্ত করতে একটি পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে ডাঙ্গোটের। এ ছাড়া জিবুতি থেকে ইথিওপিয়া পর্যন্ত আরেকটি পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই পাইপলাইনগুলো বৃহত্তর একটি আঞ্চলিক নেটওয়ার্কের অংশ। প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পূর্ব আফ্রিকার স্থলবেষ্টিত দেশগুলোকে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান ইআইএলের সঙ্গে ডাঙ্গোটে গ্রুপের আগেও কাজের সম্পর্ক রয়েছে। লাওসে ডাঙ্গোটে পেট্রোলিয়াম রিফাইনারি অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যালস এফজেডই প্রকল্পে ইআইএল পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সম্প্রসারণ কার্যক্রমও তদারক করছে ইআইএল।
এদিকে ডাঙ্গোটে গ্রুপের ব্যবসা আরও বড় করার লক্ষ্য রয়েছে। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, ডাঙ্গোটের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। ২০৩০ সালের মধ্যে ডাঙ্গোটে গ্রুপের আয় ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন তিনি।
এই লক্ষ্য অর্জনে আগামী চার বছরে আফ্রিকাজুড়ে ব্যবসা সম্প্রসারণে আরও ৫০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে ডাঙ্গোটের। কেনিয়ার নতুন শোধনাগার, পাইপলাইন নেটওয়ার্ক এবং লাওসের শোধনাগার সম্প্রসারণ—সব মিলিয়ে আফ্রিকা ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ডাঙ্গোটে গ্রুপের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ স্পষ্ট হচ্ছে।
