একসময় বৈশ্বিক ক্রীড়াপণ্যের বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল মার্কিন প্রতিষ্ঠান নাইকির। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই অবস্থান ধরে রাখতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই ব্র্যান্ড।

ধারাবাহিক রাজস্ব ঘাটতি, গ্রাহক হারানো এবং প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডগুলোর কাছে বাজারের অংশীদারত্ব হারানোর কারণে চাপের মধ্যে রয়েছে নাইকি। শেয়ারবাজারে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য কমে যাওয়ার পর সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৃহৎ কোম্পানির সূচক এসঅ্যান্ডপি ১০০ থেকেও বাদ পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

নাইকিকে ঘুরে দাঁড় করাতে দুই বছর আগে অবসর ভেঙে ফিরে ...

একসময় বৈশ্বিক ক্রীড়াপণ্যের বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল মার্কিন প্রতিষ্ঠান নাইকির। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই অবস্থান ধরে রাখতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই ব্র্যান্ড।

ধারাবাহিক রাজস্ব ঘাটতি, গ্রাহক হারানো এবং প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডগুলোর কাছে বাজারের অংশীদারত্ব হারানোর কারণে চাপের মধ্যে রয়েছে নাইকি। শেয়ারবাজারে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য কমে যাওয়ার পর সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৃহৎ কোম্পানির সূচক এসঅ্যান্ডপি ১০০ থেকেও বাদ পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

নাইকিকে ঘুরে দাঁড় করাতে দুই বছর আগে অবসর ভেঙে ফিরে আসা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এলিয়ট হিলের নেতৃত্বে নতুন কৌশল নেওয়া হয়েছে। তবে এই পরিবর্তনের সুফল পেতে সময় লাগবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

নাইকির জন্য সাম্প্রতিক বড় ধাক্কাগুলোর একটি এসেছে তারকা খেলোয়াড়দের হারানোর মধ্য দিয়ে। পিএসজি ও রিয়াল মাদ্রিদের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে দীর্ঘ ২০ বছরের সম্পর্ক শেষ করে সুইজারল্যান্ডের উদীয়মান ব্র্যান্ড অন-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এর আগে স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালও নাইকি ছেড়ে অ্যাডিডাসে যোগ দেন।

বিশ্বখ্যাত দুই ফুটবল তারকার প্রস্থান নাইকির ব্র্যান্ড ভাবমূর্তিতে চাপ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থানেও দুর্বলতার চিত্র দেখা যাচ্ছে। নাইকির সর্বশেষ প্রান্তিকে রাজস্ব হয়েছে ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে কম। বিশেষ করে চীনের বাজারে প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব ২৬ শতাংশ কমেছে।

নাইকির জনপ্রিয় জর্ডান ব্র্যান্ডের পণ্য অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে বিক্রি কমে যাওয়ায় উৎপাদন ও সরবরাহ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন অর্থবছরেও আয় কমার আশঙ্কা রয়েছে।

খরচ কমাতেও বড় পরিকল্পনা নিয়েছে নাইকি। ২০৩১ সালের মধ্যে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এই পরিকল্পনা ও আর্থিক হিসাব প্রকাশের পর নিউইয়র্কের শেয়ারবাজারে নাইকির শেয়ারদর ৮ শতাংশের বেশি কমে যায়।

স্পোর্টস খুচরা বিক্রয় খাতের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যাট পাওয়েল নাইকির দুর্বল অবস্থানের পেছনে কয়েকটি কৌশলগত সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন। তাঁর মতে, সীমিত সংস্করণের বা বিশেষ ধরনের জুতার সরবরাহ অতিরিক্ত বাড়িয়ে দেওয়ায় এসব পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ ও বিশেষত্ব কমেছে।

এ ছাড়া সাবেক সিইও জন ডোনাহোর সময়ে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক কমিয়ে নিজেদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি পণ্য বিক্রির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। করোনাকালে এই কৌশল কিছুটা সফল হলেও পরবর্তী সময়ে এর কার্যকারিতা কমে যায়।

পাশাপাশি নতুন পণ্য ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগের পরিবর্তে ডিজিটাল কার্যক্রমে বেশি অর্থ ব্যয় করায় পণ্য উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও নাইকি কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

নতুন প্রজন্মের ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ঐতিহাসিক ‘জাস্ট ডু ইট’ স্লোগানের পর এবার ‘হোয়াই ডু ইট?’ নামে নতুন প্রচারাভিযান শুরু করেছে নাইকি।

তবে বর্তমান সংকট কাটিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে মনে করেন ম্যাট পাওয়েল। তাঁর ধারণা, আগামী বছর থেকেই নতুন কৌশলের ইতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে। তবে নাইকি আবারও বাজারের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারলেও আগের মতো একচ্ছত্র আধিপত্য ফিরে পাওয়া কঠিন হতে পারে।