ডিপফেকে তারকাদের মুখ-স্বরে ভয়াবহ কারসাজি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে এর অপব্যবহার। তারকাদের মুখ বদলে দেওয়া, কণ্ঠস্বর নকল করা কিংবা পুরোনো ভিডিওতে নতুন বক্তব্য জুড়ে দিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ভুয়া ভিডিও। ‘ডিপফেক’ নামে পরিচিত এই প্রযুক্তির অপব্যবহারের শিকার হয়েছেন বলিউডের একাধিক তারকা।
সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন সালমান খানও। ‘বিগ বস ২০’-এর মঞ্চে তিনি বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিডিও তৈরি করে যারা ছড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে তাদের জেলেও পাঠানোর ...
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে এর অপব্যবহার। তারকাদের মুখ বদলে দেওয়া, কণ্ঠস্বর নকল করা কিংবা পুরোনো ভিডিওতে নতুন বক্তব্য জুড়ে দিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ভুয়া ভিডিও। ‘ডিপফেক’ নামে পরিচিত এই প্রযুক্তির অপব্যবহারের শিকার হয়েছেন বলিউডের একাধিক তারকা।
সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন সালমান খানও। ‘বিগ বস ২০’-এর মঞ্চে তিনি বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিডিও তৈরি করে যারা ছড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে তাদের জেলেও পাঠানোর কথা বলেন তিনি।
রাশ্মিকা মান্দানা
২০২৩ সালের নভেম্বরে রাশ্মিকা মান্দানার মুখ বসানো একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। মূল ভিডিওতে ছিলেন নেটপ্রভাবক জারা প্যাটেল। প্রযুক্তির মাধ্যমে ওই তরুণীর মুখের জায়গায় রাশ্মিকার মুখ বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর রাশ্মিকা ঘটনাটিকে ভয়ংকর বলে উল্লেখ করেন এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
ক্যাটরিনা কাইফ
‘টাইগার ৩’ সিনেমার একটি দৃশ্য নিয়েও তৈরি হয় বিকৃত ছবি। দৃশ্যটিতে ক্যাটরিনার পরনে থাকা পোশাক প্রযুক্তির মাধ্যমে বদলে দেওয়া হয়। পরে ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ বিষয়ে ক্যাটরিনা নিজে কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য দেননি।
আলিয়া ভাট
২০২৩ সালে আলিয়া ভাটের মুখ বসানো একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। অন্য এক নারীর শরীরে তাঁর মুখ বসিয়ে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছিল। আরেকটি ঘটনায় অভিনেত্রী ওয়ামিকা গব্বীর একটি ভিডিওতেও আলিয়ার মুখ বসিয়ে দেওয়া হয়।
কাজল
কাজলের নামেও ছড়ানো হয়েছিল একটি ভুয়া ভিডিও। পরে যাচাই করে জানা যায়, ভিডিওটি আসলে যুক্তরাজ্যের এক নেটপ্রভাবকের পুরোনো ভিডিও। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সেখানে কাজলের মুখ বসানো হয়েছিল। ভিডিওটির চোখের অস্বাভাবিক নড়াচড়াসহ বিভিন্ন ত্রুটি দেখে কারসাজিটি ধরা পড়ে।
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া
প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে নিয়েও তৈরি হয়েছিল ভিন্ন ধরনের ডিপফেক। একটি পুরোনো প্রচারমূলক ভিডিওতে তাঁর মুখ ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করা হয়। ভিডিওতে তাঁকে নিজের আয় নিয়ে কথা বলতে এবং একটি প্রতিষ্ঠানের প্রচার করতে দেখা যায়। অথচ এ ধরনের বক্তব্য বা প্রচারে তাঁর অনুমতি ছিল না।
নোরা ফাতেহি
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নোরা ফাতেহির নামে একটি ভুয়া বিজ্ঞাপনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখতে অনেকটা নোরার মতো এক নারীকে পোশাকের প্রচার করতে দেখা যায়। তাঁর চেহারা, কণ্ঠস্বর ও অঙ্গভঙ্গিও নকল করা হয়েছিল। পরে নোরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার করে জানান, ‘এটা আমি নই।’
সোনু সুদ
সোনু সুদের পরিচয় ব্যবহার করেও প্রতারণার চেষ্টা হয়েছে। ২০২৪ সালে এমন একটি ভিডিও তাঁর নজরে আসে, যেখানে তাঁর মতো দেখতে এক ব্যক্তি অসহায় একটি পরিবারকে চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আশ্বাস দিচ্ছিলেন। পরে জানা যায়, প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। বিষয়টি প্রকাশ করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেন সোনু।
রণবীর সিং
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে রণবীর সিংয়ের একটি সাক্ষাৎকারের অংশ বিকৃত করে রাজনৈতিক প্রচারের মতো করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তাঁর মুখে রাজনৈতিক বক্তব্য বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা তিনি আসলে বলেননি। পরে রণবীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্ক করেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়।
আমির খান
নির্বাচনের সময় ডিপফেকের শিকার হন আমির খানও। পুরোনো ভিডিও ব্যবহার করে তাঁর মুখ বসিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে প্রচারের মতো ভিডিও তৈরি করা হয়েছিল। আমিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করেননি। পরে মুম্বাই পুলিশের সাইবার অপরাধ বিভাগে অভিযোগ করা হয়।
বরুণ ধাওয়ান
২০২৬ সালে ডিপফেকের বিরুদ্ধে আইনি পথে যান বরুণ ধাওয়ান। তাঁর নাম, ছবি ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি আপত্তিকর ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ করেন তিনি। পরে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিনেতা।
ওয়ামিকা গব্বী
২০২৪ সালে ওয়ামিকা গব্বীর একটি ভিডিওতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার করা হয়। তাঁর মুখের জায়গায় আলিয়া ভাটের মুখ বসিয়ে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এতে আলিয়ার পাশাপাশি ওয়ামিকাও ডিপফেকের অপব্যবহারের শিকার হন।
ডিপফেকের এসব ঘটনা দেখাচ্ছে, এখন শুধু মুখ বদলেই থেমে নেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার। কারও কণ্ঠস্বর নকল করে সম্পূর্ণ নতুন বক্তব্য তৈরি করা হচ্ছে, আবার পুরোনো ভিডিও ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রচার বা প্রতারণার মতো ঘটনাও ঘটছে।
কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্ক করেছেন, কেউ পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন, আবার কেউ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আর এই পরিস্থিতিতেই ডিপফেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সালমান খান।
তারকারা যেমন এই প্রযুক্তির অপব্যবহারের শিকার হচ্ছেন, তেমনি সাধারণ মানুষকেও বিভ্রান্ত বা প্রতারিত করা সম্ভব। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভিডিও দেখেই সেটিকে সত্য ধরে নেওয়ার আগে এর সত্যতা যাচাই করার ওপরই জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
