১২ মাসে বদলে যাবে শেয়ারবাজার : গনি
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারের টেকসই উন্নয়ন, বিনিয়োগকারী সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজারকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বহুমুখী সংস্কারমূলক উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও শেয়ারবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি।
তিনি বলেন, আগামী ১২ মাসের মধ্যে এসব সংস্কারের ইতিবাচক ফল শেয়ারবাজারে দৃশ্যমান হবে। এর মাধ্যমে দেশের শেয়ারবাজার একটি শক্তিশালী ও ভিন্ন রূপ লাভ করবে।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ অডিটরিয়ামে ‘বিশ্ব ...
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারের টেকসই উন্নয়ন, বিনিয়োগকারী সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজারকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বহুমুখী সংস্কারমূলক উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও শেয়ারবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি।
তিনি বলেন, আগামী ১২ মাসের মধ্যে এসব সংস্কারের ইতিবাচক ফল শেয়ারবাজারে দৃশ্যমান হবে। এর মাধ্যমে দেশের শেয়ারবাজার একটি শক্তিশালী ও ভিন্ন রূপ লাভ করবে।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ অডিটরিয়ামে ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ‘বিনিয়োগকারীর স্থিতিস্থাপকতা, ডিজিটাল প্রতারণা ও প্রতারণা সতর্কতা’।
গনি বলেন, বিএসইসির বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর গত চার মাসে আন্তর্জাতিক সিকিউরিটিজ কমিশনগুলোর সংগঠন আইওএসসিওর (আইওএসকো) মিশন স্টেটমেন্টের মূল লক্ষ্য—বিনিয়োগকারী সুরক্ষা, আস্থা এবং ন্যায্য ও দক্ষ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর ভিত্তি করে কাজ করছে। বাজার সংস্কারের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিএসইসির নেওয়া উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কমিশন সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছে। ডাইরেক্ট লিস্টিং রুলস পরিমার্জন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইপিও পাওয়ার প্রক্রিয়া ১৮ মাস থেকে কমিয়ে তিন মাসে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আইপিও প্রসিডিংস রুলস সহজ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের শেয়ারবাজারের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাজারের অদক্ষতা দূর করতে সার্কিট ব্রেকার ব্যবস্থাতেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় আইপিএস প্রোটেকশন ফান্ড থেকে অর্থ বিতরণ শুরু হয়েছে বলেও জানান গনি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সহজ করতে মিউচুয়াল ফান্ডের নিয়মকানুন সরল ও যুগোপযোগী করা হয়েছে।
শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের পরিধি বাড়াতে বন্ড মার্কেট, রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট (আরইআইটি) এবং স্থানীয় মুদ্রার বন্ড নিয়ে কাজ চলছে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে বাজারের পাইপলাইন শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি বিদেশি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাজারের প্রকৃত অবস্থা পর্যবেক্ষণে মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন-টু-জিডিপি এবং গড় দৈনিক লেনদেনের পরিমাণের মতো সূচকগুলো সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গনি বলেন, দেশের বড় পেনশন ও বীমা খাতের অর্থ দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে শেয়ারবাজারে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অর্থের জোগান বাড়বে।
শেয়ারবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মধ্যে প্রতি মাসে নিয়মিত সমন্বয় সভা শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিনিয়োগকারীদের আর্থিক জ্ঞান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে অর্থ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সঠিক জ্ঞান ও বিজ্ঞানের প্রয়োজন রয়েছে। তা না হলে বিনিয়োগকারীদের অপ্রয়োজনীয় আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়। এ জন্য আর্থিক জ্ঞানবিষয়ক কার্যক্রম আধুনিকায়ন এবং নতুন ওয়েবসাইট চালুর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সচেতন করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান সংস্কার বাস্তবায়নের ফলে আগামী ১২ মাসের মধ্যে শেয়ারবাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান হবে এবং দেশের শেয়ারবাজার আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।
