বড় কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আনতে বাধা ‘সঠিক মূল্যায়ন না পাওয়া’: আরিফ খান
দেশের বড় ও ভালো করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেয়ারবাজারে আনতে হলে তাদের ন্যায্য মূল্য বা ফেয়ার ভ্যালু নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আইপিও প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা ও নীতিগত অনিশ্চয়তা দূর করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ খান।
তিনি বলেন, দেশে বিলিয়ন ডলারের বেশি টার্নওভার রয়েছে—এমন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক গ্রুপগুলোর কোনোটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয়। একইভাবে অধিকাংশ বহুজাতিক কোম্পানিও দেশের পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত নয়। সঠিক মূল্য না পাওয়া, দীর্ঘসূত্রিতা ও নীতিগত অনিশ্চয়তাই এর অন্যতম ...
দেশের বড় ও ভালো করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেয়ারবাজারে আনতে হলে তাদের ন্যায্য মূল্য বা ফেয়ার ভ্যালু নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আইপিও প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা ও নীতিগত অনিশ্চয়তা দূর করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ খান।
তিনি বলেন, দেশে বিলিয়ন ডলারের বেশি টার্নওভার রয়েছে—এমন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক গ্রুপগুলোর কোনোটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয়। একইভাবে অধিকাংশ বহুজাতিক কোম্পানিও দেশের পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত নয়। সঠিক মূল্য না পাওয়া, দীর্ঘসূত্রিতা ও নীতিগত অনিশ্চয়তাই এর অন্যতম কারণ।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টর উইক ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিল্ডিং ইনভেস্টর কনফিডেন্স: দ্য রোল অব প্রফেশনাল বডিস ইন অডিট রিপোর্টিং, গভর্ন্যান্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক যৌথ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আইসিএবি, আইসিএমএবি, আইসিএসবি, আইআইএবি ও এসিসিএ বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
আইপিওতে পিছিয়ে বাংলাদেশআরিফ খান বলেন, গত ১০ বছরে বাংলাদেশ শেয়ারবাজার থেকে মাত্র ৭৩০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহ করতে পেরেছে। একই সময়ে প্রতিবেশী দেশ ভারত সংগ্রহ করেছে ৭৭ বিলিয়ন ডলার। এমনকি শুধু গত সেপ্টেম্বরেই ভারতে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের আইপিও এসেছে। ওই এক মাসে ৩৪টি কোম্পানি বাজারে যুক্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর পুঁজিবাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও বাংলাদেশের মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন-টু-জিডিপি অনুপাত ২০১১ সালের ২০ শতাংশ থেকে কমে বর্তমানে মাত্র ৬ শতাংশে নেমেছে।
নিয়ন্ত্রকের কাজ মূল্য নির্ধারণ নয়শেয়ারবাজারের অন্যতম সমস্যা হিসেবে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার বিষয়টি তুলে ধরে আরিফ খান বলেন, নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব কোনো কোম্পানির মূল্য নির্ধারণ করা নয়। বরং বাজারে কোম্পানি সম্পর্কে যথাযথ তথ্য প্রকাশ বা ডিসক্লোজার নিশ্চিত করা নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব।
তার মতে, কোম্পানির মূল্যায়ন পুরোপুরি বাজারভিত্তিক হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে ‘ডাচ অকশন’ পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ও কোটা বাড়ানোর কথা বলেন।
আরিফ খান বলেন, সাধারণ বা খুচরা বিনিয়োগকারীদের পক্ষে একটি কোম্পানির সঠিক মূল্যায়ন করা কঠিন। তাই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।
দুই বছরের আইপিও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নআইপিও অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আরিফ খান। তিনি বলেন, একটি ব্যাংক ঋণ পেতে যেখানে প্রায় এক মাস সময় লাগে, সেখানে আইপিও অনুমোদন পেতে দুই বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়।এ কারণে কাগজপত্র ও অপ্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার বেড়াজাল কমিয়ে সর্বোচ্চ তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে আইপিও প্রক্রিয়া শেষ করার তাগিদ দেন তিনি।একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য নীতিগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।‘ফ্লোর প্রাইস ছিল বড় ভুল’শেয়ারবাজারে অতীতে ফ্লোর প্রাইস আরোপের সিদ্ধান্তকে দেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসের অন্যতম বড় ভুল বলে উল্লেখ করেন আরিফ খান।
তিনি বলেন, গোল্ডম্যান স্যাকস বা ব্ল্যাকস্টোনের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ফ্লোর প্রাইস ব্যবস্থাকে ‘ঘরে ডেকে এনে দরজা বন্ধ করে দেওয়ার’ সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
আরিফ খান বলেন, ইকুইটি মার্কেটে কোনো গ্যারান্টিড রিটার্ন থাকতে পারে না। একই সঙ্গে বিনিয়োগে কোনো লোকসান হবে না—এমন প্রত্যাশা থাকলে ভালো কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে আনা সম্ভব নয়।অডিটর-সিএফওদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বসেমিনারে সিএফও ও অডিটরদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। আলোচনায় বলা হয়, প্রফেশনাল অ্যাকাউন্ট্যান্টদের উচিত প্রতিষ্ঠানের মালিক ও শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির সুফল সম্পর্কে বোঝানো।দীর্ঘমেয়াদে সুশাসন নিশ্চিত করা, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অর্থের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং নিরপেক্ষ অডিটের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে সেমিনারে মত দেওয়া হয়।
