অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক :   শেয়ারবাজারে বিনিয়োগযোগ্য ভালো কোম্পানি ও আর্থিক পণ্য না থাকলে শুধু বিনিয়োগ শিক্ষা দিয়ে বাজারে বিনিয়োগকারী বাড়ানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন আল-আমিন। তিনি বলেন ঝুঁকি নিয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের চেয়ে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে ভালো রিটার্ন পাওয়া গেলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে আসবে না।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টর উইক ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ...

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে বিনিয়োগযোগ্য ভালো কোম্পানি ও আর্থিক পণ্য না থাকলে শুধু বিনিয়োগ শিক্ষা দিয়ে বাজারে বিনিয়োগকারী বাড়ানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন আল-আমিন। তিনি বলেন ঝুঁকি নিয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের চেয়ে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে ভালো রিটার্ন পাওয়া গেলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে আসবে না।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টর উইক ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি) ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

আল-আমিন বলেন বর্তমানে দেশে প্রায় ১৬ লাখ ৭৫ হাজার বিও হিসাব থাকলেও সক্রিয় বিও হিসাব মাত্র প্রায় ২ লাখ। বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম আরও কার্যকর হলে এই সংখ্যা বরং কমে যেতে পারে। কারণ বাজারে বিনিয়োগযোগ্য কোম্পানি ও পণ্যের ঘাটতি রয়েছে।

তিনি বলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ৩২টি কোম্পানি উৎপাদন বন্ধ অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে ২০০২ সাল থেকে বন্ধ থাকা একটি কোম্পানির শেয়ারের দাম ১৪ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকা হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্টক এক্সচেঞ্জ থাকার পরও এমন ঘটনা ঘটলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বাজারের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।

তিনি বলেন এ ধরনের পরিস্থিতিতে মানুষকে যতই বিনিয়োগ শিক্ষা দেওয়া হোক না কেন তারা বাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে না। কারণ বিনিয়োগকারীর জন্য ভালো ও বিনিয়োগযোগ্য পণ্য থাকতে হবে।

আল-আমিন বলেন বর্তমানে বাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে অনেক প্র্যাকটিসিং ব্রোকারও ট্রেজারি বিল ও বন্ডের দিকে চলে যাচ্ছে। এটিকে তাদের দোষ দেওয়া যায় না। কারণ সেখানে তুলনামূলক ভালো রিটার্ন পাওয়া গেলে এবং শেয়ারবাজারে পর্যাপ্ত বিনিয়োগযোগ্য পণ্য না থাকলে তারা স্বাভাবিকভাবেই নিরাপদ বিকল্প বেছে নেবেন।

তিনি বলেন পেনশন ফান্ডসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি তহবিলকে শেয়ারবাজারে আনতে হলে আগে বাজারকে প্রস্তুত করতে হবে। এসব তহবিলের বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত ও আকর্ষণীয় আর্থিক পণ্য থাকতে হবে।

বাজারকে আকর্ষণীয় করতে আর্থিক প্রতিবেদনকে বিশ্বাসযোগ্য করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। আল-আমিন বলেন আর্থিক বিবরণীর ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা না থাকলে দেশি বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও বাজারে আনা সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন কোম্পানির আর্থিক বিবরণী প্রস্তুতের দায়িত্ব ব্যবস্থাপনার। অডিটরের দায়িত্ব হলো স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করে আর্থিক বিবরণী যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রস্তুত করা হয়েছে কি না সে বিষয়ে মতামত দেওয়া। তাই আর্থিক প্রতিবেদনকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য অডিট ব্যবস্থার মান বাড়াতে হবে।

শেয়ারবাজারে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও কারসাজি ঠেকানোর ওপরও গুরুত্ব দেন আল-আমিন। তিনি বলেন বাজারের বড় সমস্যা ‘পাম্প অ্যান্ড ডাম্প’। একটি শেয়ারের দাম বাড়ানোর পর বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে বড় বিনিয়োগকারীদের বের হয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

তিনি বলেন কোনো শেয়ারের দাম মৌলভিত্তির বাইরে অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে কারা শেয়ার কিনছে তা শনাক্ত করা কঠিন নয়। লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি বোঝা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

আল-আমিন বলেন শেয়ারবাজারে অনিয়মের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। নিয়ন্ত্রক সংস্থা যদি ‘গিভ অ্যান্ড টেকিং’ বা সমঝোতার পথে যায় তাহলে বাজার টিকবে না। শেয়ারবাজারকে স্বাধীনভাবে পরিচালনা করতে হবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।