রাজস্ব ঘাটতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের শঙ্কা, উদ্বিগ্ন নন অর্থমন্ত্রী
কর ফাঁকি, দুর্বল প্রশাসন ও অতিরিক্ত করছাড়ের কারণে দেশে রাজস্ব আদায় কম হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২৯ হাজার কোটি টাকার বেশি কম রাজস্ব আদায় করেছে এনবিআর।
তবে রাজস্ব আদায় নিয়ে উদ্বিগ্ন নন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার এনবিআর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব আদায় কিছুটা ...
কর ফাঁকি, দুর্বল প্রশাসন ও অতিরিক্ত করছাড়ের কারণে দেশে রাজস্ব আদায় কম হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২৯ হাজার কোটি টাকার বেশি কম রাজস্ব আদায় করেছে এনবিআর।
তবে রাজস্ব আদায় নিয়ে উদ্বিগ্ন নন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার এনবিআর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব আদায় কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও সময়ের সঙ্গে আদায়ের গতি বাড়বে এবং বছর শেষে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কর আদায়ে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং করদাতাদের আস্থা তৈরিতে কাজ চলছে। করদাতারা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই দিনে বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’।
এদিকে বিদেশ থেকে সুতা আমদানির জটিলতা নিয়ে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আমদানিতে কিছু জটিলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন বন্দরে আটকে থাকা সুতা দ্রুত খালাসে এনবিআরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে বন্ড সুবিধার বাইরে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। তাঁর মতে, এতে আমদানিতে জবাবদিহি বাড়বে এবং রপ্তানির মাধ্যমে দায় পরিশোধের সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে অসাধু ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে অর্থ পাচারের ঝুঁকিও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
শওকত আজিজ রাসেল আরও বলেন, ডি-বন্ডিংয়ের সুযোগ বাড়ানো হলে দেশে নতুন শিল্প গড়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ডাইস ও কেমিক্যালের মতো শিল্প বাংলাদেশে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে। তাঁর মতে, ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ থাকলে শুল্ক ও জবাবদিহি—দুই দিকই নিশ্চিত করা সম্ভব।
