ব্যাংকের বিশেষ তহবিল ৩০০ কোটি টাকা করার দাবি ডিবিএ
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : দেশের শেয়ারবাজারে চলমান তারল্য সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তহবিলের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। সংগঠনটি প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের জন্য বিদ্যমান ২০০ কোটি টাকার সীমা বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি এ সুবিধার মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোরও প্রস্তাব দিয়েছে তারা।
এ বিষয়ে গত ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের কাছে ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত ...
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : দেশের শেয়ারবাজারে চলমান তারল্য সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তহবিলের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। সংগঠনটি প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের জন্য বিদ্যমান ২০০ কোটি টাকার সীমা বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি এ সুবিধার মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোরও প্রস্তাব দিয়েছে তারা।
এ বিষয়ে গত ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের কাছে ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠির অনুলিপি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খানের কাছেও দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে ডিবিএ উল্লেখ করেছে, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বাজারের উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের চালু করা বিশেষ তহবিল ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। এ সুবিধার ফলে ব্যাংকগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি বাজারে তারল্য ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা হয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও জোরদার হয়েছে বলে মনে করে সংগঠনটি।
বর্তমানে প্রতিটি তফসিলি ব্যাংক সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারে। তবে এই সুবিধার বর্তমান মেয়াদ আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
ডিবিএর মতে, শেয়ারবাজারে বিদ্যমান তারল্য সংকটের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষ তহবিল সুবিধা প্রত্যাহার না করে বরং আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
এ লক্ষ্যে সংগঠনটি বিশেষ তহবিলের সীমা বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা এবং এর মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়িয়ে ৩০ নভেম্বর ২০৩১ পর্যন্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে।
ডিবিএ মনে করে, তহবিলের সীমা ও মেয়াদ বাড়ানো হলে শেয়ারবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে। এর ফলে বাজারের তারল্য ও গভীরতা বাড়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বৃদ্ধি পাবে।
সংগঠনটির ভাষ্য, দীর্ঘমেয়াদে এই বিশেষ তহবিল শেয়ারবাজারের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হলে লেনদেনের গতি এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উভয়ই আরও শক্তিশালী হবে।
চিঠিতে ডিবিএ আশা প্রকাশ করেছে, শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ তহবিলের সীমা ৩০০ কোটি টাকা এবং এর মেয়াদ ৩০ নভেম্বর ২০৩১ পর্যন্ত বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
এ ছাড়া শেয়ারবাজারের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতেও কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ডিবিএ।
