শেয়ারবাজারে কারসাজি, গোপন তথ্য ব্যবহার করে লেনদেন এবং প্রকৃত শেয়ারমালিকানা আড়াল করার অভিযোগে ইউনাইটেড গ্রুপের দুই শীর্ষ ব্যক্তির ভূমিকা অনুসন্ধান করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তাঁরা হলেন গ্রুপটির প্রধান উপদেষ্টা হাসান মাহমুদ রাজা এবং ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মইনুদ্দিন হাসান রশিদ।

তালিকাভুক্ত ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ও খুলনা পাওয়ার কোম্পানিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন ঘিরে এসব অভিযোগ উঠেছে। ১০ অক্টোবর বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র ...

শেয়ারবাজারে কারসাজি, গোপন তথ্য ব্যবহার করে লেনদেন এবং প্রকৃত শেয়ারমালিকানা আড়াল করার অভিযোগে ইউনাইটেড গ্রুপের দুই শীর্ষ ব্যক্তির ভূমিকা অনুসন্ধান করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তাঁরা হলেন গ্রুপটির প্রধান উপদেষ্টা হাসান মাহমুদ রাজা এবং ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মইনুদ্দিন হাসান রশিদ।

তালিকাভুক্ত ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ও খুলনা পাওয়ার কোম্পানিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন ঘিরে এসব অভিযোগ উঠেছে। ১০ অক্টোবর বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে আগামীর সময়।

বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে জারি করা সংশোধিত আদেশে তিন কর্মকর্তাকে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন বিএসইসির পরিচালক মোহাম্মদ শামসুর রহমান, যুগ্ম পরিচালক জিয়াউর রহমান ও সহকারী পরিচালক আলী আহসান। তাঁদের ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এম. এম. হাবিবুল্লাহ ও নুরুজ্জামান জিন্নাহর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। শেয়ার কেনাবেচায় কার অর্থ ব্যবহার হয়েছে, কোন সুবিধাভোগীর নামে লেনদেন হয়েছে এবং শেয়ার বিক্রির অর্থ ও লভ্যাংশ শেষ পর্যন্ত কারা পেয়েছেন—এসব বিষয় খতিয়ে দেখবে কমিশন।

অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, আত্মীয়স্বজন, কর্মচারী ও সহযোগীদের পাশাপাশি ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিও হিসাব, শেয়ার লেনদেনের নথি এবং ব্যাংক হিসাব পরীক্ষা করা হবে। অন্যের নামে হিসাব খুলে প্রকৃত মালিকানা গোপন করা হয়েছিল কি না, তা-ও যাচাই করা হবে।

শেয়ার কেনার অর্থের উৎস এবং এক হিসাব থেকে অন্য হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের তথ্যও পরীক্ষা করবে বিএসইসি। ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানি বা এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি শেয়ার বিক্রির অর্থ, লভ্যাংশ ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার গতিপথ অনুসরণ করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।

শুধু হিসাব ও অর্থের উৎস নয়, শেয়ারবাজারে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি, সমন্বিতভাবে লেনদেন এবং প্রতারণামূলক উপায়ে শেয়ারের দাম প্রভাবিত করার অভিযোগও পরীক্ষা করা হবে। কোম্পানির অপ্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ব্যবহার করে কেউ শেয়ার কেনাবেচা করেছেন কি না, সেটিও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে হাসান মাহমুদ রাজা ও মইনুদ্দিন হাসান রশিদের ভূমিকা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হবে। তবে অভিযোগকারীসহ সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকাও অনুসন্ধানে বিবেচনা করা হবে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার, ব্যাংক, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডসহ (সিডিবিএল) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নথি যাচাই করা হবে। হিসাব খোলা ও পরিচালনা, শেয়ার লেনদেনের আদেশ কার্যকর, অর্থ ও শেয়ার স্থানান্তর এবং লভ্যাংশ বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করবে অনুসন্ধান দল।

অনুসন্ধানে সিকিউরিটিজ আইন ও বিধিবিধান লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায় কি না, তা যাচাই করে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।