শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির অভিযোগে একই পরিবারের তিন বিনিয়োগকারীকে মোট ৭৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। অভিযুক্ত তিনজন হলেন মো. আবু তাহের শিকদার, তাঁর স্ত্রী উম্মা সালমা নিপা এবং তাঁর শ্যালক এস এম শাহেদ শাকিল।

বিএসইসির তদন্তে ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে তাঁদের বিভিন্ন বিও হিসাব ও একাধিক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য উঠে ...

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির অভিযোগে একই পরিবারের তিন বিনিয়োগকারীকে মোট ৭৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। অভিযুক্ত তিনজন হলেন মো. আবু তাহের শিকদার, তাঁর স্ত্রী উম্মা সালমা নিপা এবং তাঁর শ্যালক এস এম শাহেদ শাকিল।

বিএসইসির তদন্তে ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে তাঁদের বিভিন্ন বিও হিসাব ও একাধিক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য উঠে আসে। কমিশনের অভিযোগ, কৃত্রিম লেনদেনের মাধ্যমে শেয়ারের চাহিদা তৈরি এবং ধারাবাহিক কেনাবেচার মাধ্যমে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

তদন্ত অনুযায়ী, ওই সময়ে তিনজন সম্মিলিতভাবে ট্রাস্ট ইসলামী লাইফের ৫১ লাখ ২২ হাজার ৬৯৩টি শেয়ার কিনেছেন। এতে তাঁদের ব্যয় হয়েছে ২৭ কোটি ৬২ লাখ ৭০ হাজার ৩৭০ টাকা ৯০ পয়সা। শেয়ারগুলোর গড় ক্রয়মূল্য ছিল ৫৩ টাকা ৯৩ পয়সা।

একই সময়ে তাঁরা ৪৪ লাখ ৬ হাজার ১০৯টি শেয়ার বিক্রি করে পেয়েছেন ২৪ কোটি ৪৫ লাখ ১৬ হাজার ৪৯০ টাকা ১০ পয়সা। বিক্রি করা শেয়ারের গড় মূল্য ছিল ৫৫ টাকা ৪৯ পয়সা। তদন্তে এসব লেনদেন থেকে তাঁদের প্রকৃত মূলধনি মুনাফা ২ কোটি ৯ লাখ ১৫ হাজার ৮৮৩ টাকা ৮ পয়সা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট শেয়ারটির সমাপনী দর ৮৩ টাকা ২০ পয়সা ধরে তাঁদের হাতে থাকা ১৪ লাখ ৩৩ হাজার ২৬০টি শেয়ারে অবাস্তবায়িত মুনাফা হিসাব করা হয়েছে ৩ কোটি ৬৬ লাখ ৬ হাজার ৭ টাকা ৪৮ পয়সা। অর্থাৎ, প্রকৃত ও অবাস্তবায়িত মুনাফা মিলিয়ে সম্ভাব্য লাভের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকার বেশি।

তদন্তে আবু তাহের শিকদারের নামে আইএফআইসি সিকিউরিটিজ, সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্সেস, এমটিবি সিকিউরিটিজ ও কাজী ইক্যুইটিজে চারটি হিসাবের তথ্য পাওয়া যায়। শাহেদ শাকিল সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্সেস এবং উম্মা সালমা নিপা অ্যারেনা সিকিউরিটিজের মাধ্যমে লেনদেন করেন।

শুনানিতে তিন বিনিয়োগকারী কারসাজির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁদের দাবি, কোম্পানির ব্যবসায়িক সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে শেয়ার কেনা হয়েছিল। আবু তাহের শিকদার জানান, তিনি সরাসরি একটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানে লেনদেন করতেন। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী ও আত্মীয়রা মুঠোফোনে নির্দেশ দিয়ে অন্য ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেনদেন করতেন। ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ক্রয়-বিক্রয়ের আদেশ পরস্পরের সঙ্গে মিলে যেতে পারে বলে তাঁদের দাবি। তবে এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি বিএসইসি।

কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, একই পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন হিসাব থেকে একই সময়ে বিপরীতমুখী আদেশ দেওয়া এবং ধারাবাহিক লেনদেনের মাধ্যমে শেয়ারের দাম বাড়ানোর ঘটনা নিছক কাকতালীয় হওয়ার সুযোগ নেই। এ কারণে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ১৭(ই)(ii) ও ১৭(ই)(v) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে তাঁদের জরিমানা করা হয়েছে।

এর মধ্যে আবু তাহের শিকদারকে ৫৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা, উম্মা সালমা নিপাকে ৫ লাখ টাকা এবং শাহেদ শাকিলকে ১৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃত্রিম লেনদেন দেখানোর দায়ে তিনজনের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।