বাংলাদেশে নতুন বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ৫ শতাংশ
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক: বাংলাদেশে নতুন বিদেশি মূলধন বিনিয়োগ কমছে। চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দেশে নতুন বিদেশি বিনিয়োগ বা নিট ইক্যুইটি এসেছে ৭ কোটি ৭৪ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের ৮ কোটি ১৩ লাখ ডলারের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিদ্যমান বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো মুনাফার একটি অংশ বাংলাদেশে পুনর্বিনিয়োগ করলেও নতুন বিনিয়োগের চিত্র দুর্বল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পুরোনো বিনিয়োগকারীদের মুনাফা পুনর্বিনিয়োগের অর্থ বাড়লেও ...
অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক: বাংলাদেশে নতুন বিদেশি মূলধন বিনিয়োগ কমছে। চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দেশে নতুন বিদেশি বিনিয়োগ বা নিট ইক্যুইটি এসেছে ৭ কোটি ৭৪ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের ৮ কোটি ১৩ লাখ ডলারের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিদ্যমান বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো মুনাফার একটি অংশ বাংলাদেশে পুনর্বিনিয়োগ করলেও নতুন বিনিয়োগের চিত্র দুর্বল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পুরোনো বিনিয়োগকারীদের মুনাফা পুনর্বিনিয়োগের অর্থ বাড়লেও নতুন বিদেশি উদ্যোক্তাদের আগ্রহ কমে যাওয়া উদ্বেগের বিষয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণের নিট প্রবাহ আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৬৭ দশমিক ০৪ শতাংশ কমে ৮৬ লাখ ১০ হাজার ডলারে নেমেছে। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে এ পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৬১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। গত বছরের একই প্রান্তিকে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণের নিট প্রবাহ ছিল ৫ কোটি ৮০ লাখ ৮০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কমেছে ৮৫ দশমিক ১৭ শতাংশ।
আলোচ্য প্রান্তিকে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণ বাবদ বাংলাদেশে মোট অর্থ এসেছে ৩৩ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। বিপরীতে বিদেশে অর্থ চলে গেছে ৩২ কোটি ৫১ লাখ ৯০ হাজার ডলার। ফলে এ খাতে নিট বিনিয়োগের পরিমাণ সীমিত ছিল।
অন্যদিকে, পুরোনো বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ বেড়েছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে পুনর্বিনিয়োগ করা মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬ কোটি ৯১ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১৬ কোটি ৮২ লাখ ডলার।
এ প্রান্তিকে মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ বাবদ মোট অর্থপ্রবাহ ছিল ৬৬ কোটি ৪৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার। বিপরীতে এ খাতে অর্থের বহিঃপ্রবাহ ছিল ৪০ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। ফলে নিট অর্থপ্রবাহ দাঁড়ায় ২৬ কোটি ৯ লাখ ১০ হাজার ডলার।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থাগুলোর মূল্যায়নে বাংলাদেশের ঋণমান কমে যাওয়া বিদেশি বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি ব্যাংক খাতে উচ্চ খেলাপি ঋণের হারও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থায় প্রভাব ফেলছে। এসব কারণে নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদেশি উদ্যোক্তারা সতর্ক অবস্থান নিতে পারেন।
সব মিলিয়ে, পুরোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ বাড়লেও নতুন ইক্যুইটি বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় দেশে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
