বাংলা সিনেমার শুরুর দিকের অভিনেত্রী নাসিমা খান মারা গেছেন
বিনোদন ডেস্ক : বাংলা চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের অভিনেত্রী নাসিমা খান আর নেই। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
অভিনেত্রীর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা নূরজাহান বেগম তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন নাসিমা খান। সাত দিন আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা ...
বিনোদন ডেস্ক : বাংলা চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের অভিনেত্রী নাসিমা খান আর নেই। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
অভিনেত্রীর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা নূরজাহান বেগম তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন নাসিমা খান। সাত দিন আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নাসিমা খানের মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অভিনেতা ওমর সানী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে তাঁকে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও উচ্চশিক্ষিত একজন শিল্পী হিসেবে স্মরণ করেছেন। তাঁর সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়াকে নিজের সৌভাগ্য বলেও উল্লেখ করেন এই অভিনেতা।
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিনেতা সনি রহমানও নাসিমা খানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, নাসিমা খান সমিতির আজীবন সম্মানিত সদস্য ছিলেন।
ছেলের ফেরার অপেক্ষায় মরদেহ
নাসিমা খানের বড় ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তাঁর ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল গত ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। ছেলের সন্ধান পেতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছিলেন অভিনেত্রী, তবে তাঁর খোঁজ মেলেনি।
সনি রহমান জানান, নাসিমা খানের বড় ছেলে দেশে ফেরার আগপর্যন্ত তাঁর মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। ছেলে দেশে ফিরলে শেষকৃত্যের আয়োজন করা হবে।
১৯৫৯ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেক
১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্ম নাসিমা খানের। তাঁর পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক পরিবেশে সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। নাচও শিখেছিলেন। তাঁর পরিবারের সঙ্গে অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা খান আতাউর রহমানের ঘনিষ্ঠতা ছিল। সেই সূত্রেই চলচ্চিত্রে আসা তাঁর।
১৯৫৯ সালে এ জে কারদারের পরিচালনায় উর্দু চলচ্চিত্র ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় নাসিমা খানের। ষাটের দশকে ঢাকার চলচ্চিত্রে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। বাংলা ও উর্দু—দুই ভাষার চলচ্চিত্রেই অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী।
তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘যে নদী মরু পথে’, ‘সূর্যস্নান’, ‘বেগানা’, ‘উজালা’, ‘তানহা’, ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝান’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’ ও ‘গৌরী’।
স্বাধীনতার পর একসময় চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে যান নাসিমা খান। পরে টেলিভিশনে উপস্থাপনার মাধ্যমে আবারও কাজ শুরু করেন। এরপর নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ফেরেন পর্দায়। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বাংলা চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের একজন শিল্পী হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তিনি।
