অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ঘিরে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল প্রতারণা প্রতিরোধ ও স্বার্থ সুরক্ষার নানা বিষয় সামনে এসেছে। তবে শুধু আলোচনা, সভা ও প্রচার-প্রচারণায় সীমাবদ্ধ থাকলে এ আয়োজনের উদ্দেশ্য পুরোপুরি অর্জিত হবে না। বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এসব উদ্যোগ সারা বছর চালু রাখা, বাজারের অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগের দ্রুত সমাধান জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক আল-আমিন ...

অর্থ বাণিজ্য প্রতিবেদক : বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ঘিরে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল প্রতারণা প্রতিরোধ ও স্বার্থ সুরক্ষার নানা বিষয় সামনে এসেছে। তবে শুধু আলোচনা, সভা ও প্রচার-প্রচারণায় সীমাবদ্ধ থাকলে এ আয়োজনের উদ্দেশ্য পুরোপুরি অর্জিত হবে না। বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এসব উদ্যোগ সারা বছর চালু রাখা, বাজারের অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগের দ্রুত সমাধান জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক আল-আমিন বলেন, বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের মতো আয়োজন বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক। তবে আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলো বাস্তবায়ন না হলে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে না। এ ধরনের কার্যক্রম সারা বছর চালু রাখা প্রয়োজন।

বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আর্থিক জ্ঞান বাড়াতে আন্তর্জাতিক সিকিউরিটিজ কমিশন সংস্থা (আইওএসসিও) প্রতিবছর বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ পালন করে। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে দশমবারের মতো সপ্তাহটি উদ্‌যাপন করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত ৫ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। ৪ অক্টোবর উদ্বোধনী আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে ১২ অক্টোবর।

এবারের আয়োজনে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল প্রতারণা শনাক্ত করা এবং প্রতারণার ফাঁদ থেকে সতর্ক থাকার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর ছবি ও ভিডিও এবং অননুমোদিত বিনিয়োগমাধ্যমের ঝুঁকি নিয়ে সচেতনতা তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়।

কিন্তু এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু নির্দিষ্ট একটি সপ্তাহে প্রচার চালানো যথেষ্ট নয়। কারণ, অনলাইনে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত তথ্যের পরিমাণ বাড়লেও তার সবই নির্ভরযোগ্য নয়। মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা, ভুয়া পরিচয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার ঝুঁকি রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, বিনিয়োগকারীদের সমস্যা ও প্রত্যাশা তুলে ধরার ক্ষেত্রে এ আয়োজন কার্যকর। তবে এক সপ্তাহের কর্মসূচির মাধ্যমে সচেতনতা তৈরির কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। এ জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রচার-প্রচারণা এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ইফতেখার আলমও বছরজুড়ে বিনিয়োগকারী সচেতনতা কার্যক্রম চালু রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শেয়ারবাজারে অনিয়ম ও প্রতারণা প্রতিরোধের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগকারীরা যাতে বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নেন, সে জন্য কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাঁর অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত এবং নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করা জরুরি। শুধু সচেতনতা বাড়িয়ে প্রতারণার ঝুঁকি কমানো সম্ভব নয়; অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়াও প্রয়োজন।

বিএসইসির মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের বার্তা বিনিয়োগকারীদের কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সব মিলিয়ে, বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের সার্থকতা শুধু আয়োজনের সংখ্যা বা প্রচার-প্রচারণায় সীমাবদ্ধ নয়। বিনিয়োগকারীরা কতটা সচেতন হলেন, প্রতারণা ও অনিয়ম কতটা কমল এবং তাঁদের অভিযোগের প্রতিকার কতটা নিশ্চিত হলো—তার ওপরই নির্ভর করবে এ উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য।