মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি, প্রায় ৭ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা
চট্টগ্রাম বন্দরে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানির মাধ্যমে প্রায় ৭ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা শনাক্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। চীন, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা আটটি চালানে যৌথ অভিযান চালিয়ে ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে প্রকৃত পণ্যের ব্যাপক অসংগতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ছয়টি চালানেই প্রায় ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা শনাক্ত হয়েছে।
সিআইসি ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর ...
চট্টগ্রাম বন্দরে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানির মাধ্যমে প্রায় ৭ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা শনাক্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। চীন, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা আটটি চালানে যৌথ অভিযান চালিয়ে ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে প্রকৃত পণ্যের ব্যাপক অসংগতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ছয়টি চালানেই প্রায় ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা শনাক্ত হয়েছে।
সিআইসি ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর শাখার যৌথ অভিযানে এসব অনিয়ম ধরা পড়ে। সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্টদের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ৩৩ ও ১৭১ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
অভিযানে কৃষিকাজে ব্যবহারের পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিনের ঘোষণায় প্রসাধনী ও স্টেজ লাইট, টুথপিকের চালানে প্রসাধনী ও স্প্রে এবং হিট ট্রান্সফার পেপারের ঘোষণায় পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার পাওয়া গেছে। এ ছাড়া স্টেইনলেস স্টিলের ঘোষণার বিপরীতে মিলেছে বিপুল পরিমাণ নাট-বোল্ট ও স্ক্রু।
এক চালানেই আড়াই কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা
সিআইসির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার নিউ মার্কেটের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ফরচুন গ্লোবাল ট্রেডিং চীন থেকে ১১ হাজার ৯৫৬ কেজি পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিন আমদানির ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু কনটেইনার খুলে পাওয়া যায় স্টেজ লাইট, ফেস ক্রিম, সান ক্রিম, টুথপেস্ট, সিরাম, এলইডি লাইট, সানগ্লাস ও শ্যাম্পুসহ বিভিন্ন পণ্য। ঘোষিত ওজনের চেয়ে প্রায় ১ হাজার ৮১৭ কেজি বেশি পণ্যও পাওয়া যায়। এ চালানে প্রায় আড়াই কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা শনাক্ত হয়েছে।
পুরান ঢাকার চকবাজারের কাফ করপোরেশনের একটি চালানে সাড়ে ২২ টন টুথপিক আমদানির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে পাওয়া যায় মাত্র ১ হাজার ৬২০ কেজি টুথপিক। বাকি পণ্যের মধ্যে ছিল পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রসাধনী, হেয়ার রিমুভার স্প্রে, সানগ্লাস ও ডিলে স্প্রে। এসব পণ্যের মধ্যে বিএসটিআই-নিষিদ্ধ ক্রিমও ছিল। এ চালানে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা শনাক্ত হয়েছে।
গাড়ির যন্ত্রাংশ ও ব্যানারের ঘোষণায় অসংগতি
ঢাকার এইচআর এন্টারপ্রাইজ থাইল্যান্ড থেকে ১৬ হাজার ৪০ কেজি ইঞ্জিন রবার বুশ আমদানির ঘোষণা দিলেও পরীক্ষায় পাওয়া যায় ৬ হাজার ৬২৫ কেজি। বাকি পণ্যের মধ্যে ছিল দামি ইঞ্জিন ও গাড়ির যন্ত্রাংশ। এ চালানে প্রায় ৪৪ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা হয়েছে। একই প্রতিষ্ঠানের আরেকটি চালানে অনুমোদন ছাড়া এইচএস কোড পরিবর্তনের চেষ্টাও ধরা পড়ে।
নিউ ট্রাস্ট ট্রেডার্সের হিট ট্রান্সফার পেপারের চালানে পাওয়া যায় প্রায় ২১ হাজার ৪৬৭ কেজি পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার। এতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা শনাক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, মোহাম্মাদীয়া ট্রেডের চালানে ২২ টনের বেশি নাট-বোল্ট ও স্ক্রু পাওয়া যায়। নিউ রনি এন্টারপ্রাইজের চালানে ছিল নাট-বোল্ট, ভারী বিয়ারিং ও চেয়ার তৈরির গ্যাস লিফট সিলিন্ডার। এসব চালানে যথাক্রমে প্রায় ৩২ লাখ ও ৪২ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা শনাক্ত হয়েছে।
কনটেইনারের সিল ভাঙা ও স্বাক্ষর জালের অভিযোগ
কাফ করপোরেশনের আরেকটি চালান নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাস্টমসের ডিজিটাল ব্যবস্থায় কনটেইনারটি আটকে রাখার পরও তা সরানোর চেষ্টা করা হয়। গত ১৯ সেপ্টেম্বর কায়িক পরীক্ষার নির্ধারিত তারিখের আগেই কনটেইনারের মূল সিল ভেঙে নতুন সিল লাগানো হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। নথিপত্র যাচাইয়ের সময় কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জালের অভিযোগও পাওয়া যায়। পরে কনটেইনারটি জব্দ করে নিরাপত্তা হেফাজতে নেওয়া হয়।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিজিটাল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে এসব অনিয়ম শনাক্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় রাজস্ব সুরক্ষা এবং দেশীয় শিল্পের স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
