শিল্প, কৃষি, রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তায় গঠিত প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ অর্থায়ন তহবিলের অর্থ বিতরণে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। ১৫টি বিশেষ খাতের মধ্যে ছয়টিতে এখনো কোনো অর্থ বিতরণ করা হয়নি। গত ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সব মিলিয়ে বিতরণ হয়েছে ১১ হাজার ৯৫১ কোটি ৮২ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তহবিলগুলোর বিপরীতে আরও ২ হাজার ৫৫৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকার ঋণ বিতরণের ...

শিল্প, কৃষি, রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তায় গঠিত প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ অর্থায়ন তহবিলের অর্থ বিতরণে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। ১৫টি বিশেষ খাতের মধ্যে ছয়টিতে এখনো কোনো অর্থ বিতরণ করা হয়নি। গত ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সব মিলিয়ে বিতরণ হয়েছে ১১ হাজার ৯৫১ কোটি ৮২ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তহবিলগুলোর বিপরীতে আরও ২ হাজার ৫৫৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকার ঋণ বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে। অথচ গত সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৫ শতাংশ এবং আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ অর্থ বিতরণের পরিকল্পনা ছিল। তবে নানা শর্ত ও জটিলতার কারণে কর্মসূচি ঘোষণার দিন থেকে ১৮ মাসের মধ্যে অর্থ বিতরণের লক্ষ্য পুনর্নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, সবুজ শিল্পকারখানা, চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা রপ্তানি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং হিমায়িত চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ রপ্তানি—এই ছয় খাতের তহবিল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অর্থ বিতরণ হয়নি।

এর মধ্যে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে ১ হাজার কোটি টাকা, সবুজ কারখানা ও শিল্পের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা, চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা রপ্তানিতে ২ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকা, গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ১ হাজার কোটি টাকা এবং হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ রপ্তানিতে ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল রয়েছে।

অন্যদিকে অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তার তহবিলে তুলনামূলক বেশি অর্থ বিতরণ হয়েছে। এ খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে বিতরণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ বরাদ্দের ৩০ শতাংশ বিতরণ হয়েছে।

বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত পুনরায় চালু করতে গঠিত ২০ হাজার কোটি টাকার প্রাক্‌-অর্থায়ন কর্মসূচির অগ্রগতিও ধীর। এ পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে ৫৬০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। আরও ৯২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিতরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ফলে এ খাতে বরাদ্দের তুলনায় বিতরণের পরিমাণ খুবই কম।

কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে গঠিত ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচিতে বিতরণ হয়েছে মাত্র ২৯২ কোটি ৯০ লাখ টাকা। বিপুল বরাদ্দের বিপরীতে এ পরিমাণ অর্থ বিতরণকে তহবিল বাস্তবায়নের ধীরগতির আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে প্রাক্‌-জাহাজীকরণ ঋণ পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির হিসাবে দেখা দিয়েছে ভিন্ন চিত্র। ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে বিতরণ দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ বরাদ্দের চেয়ে ১ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা বেশি বিতরণের তথ্য রয়েছে। এ হিসাবের বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হিসাব সমন্বয় বা সংশোধন হলে প্রকৃত বিতরণের চিত্রে পরিবর্তন আসতে পারে।

এ ছাড়া সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য বরাদ্দ ৫০০ কোটি টাকার পুরো অর্থ বিতরণ করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ১ হাজার কোটি টাকার কর্মসূচির বিপরীতে বিতরণ হয়েছে ২০০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এসব তহবিলের অর্থ বিতরণে ধীরগতির কারণে যেসব খাতের উদ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য কর্মসূচিগুলো নেওয়া হয়েছে, তাঁরা প্রত্যাশিত সময়ে অর্থ পাচ্ছেন না। বিশেষ করে বন্ধ শিল্পকারখানা চালু করা, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য বাস্তবায়নে অর্থ ছাড়ের গতি বাড়ানো প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, তহবিল সংগ্রহ এবং আবেদন যাচাই-বাছাই করতে কিছুটা বেশি সময় লেগেছে। তবে সামনে অর্থ বিতরণ দ্রুত হবে। কারণ, তখন নতুন করে চুক্তি বা নির্ধারিত কাঠামো তৈরি করতে হবে না।