হারের পর তামিমের বার্তা কঠোর পরিশ্রম ও দেশের প্রতিনিধিত্ব
খেলাধুলা ডেস্ক : জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। সেখানে দলের সদস্যদের কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেশের প্রতিনিধিত্বের গুরুত্ব মনে করিয়ে দেন তিনি।
আবুধাবিতে আজ সাংবাদিকদের এ কথা জানান বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। তিনি বলেন, ‘বার্তা ছিল কঠোর পরিশ্রম করে যাওয়া এবং এটা মনে রাখা ও বোঝা যে আমরা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব ...
খেলাধুলা ডেস্ক : জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। সেখানে দলের সদস্যদের কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেশের প্রতিনিধিত্বের গুরুত্ব মনে করিয়ে দেন তিনি।
আবুধাবিতে আজ সাংবাদিকদের এ কথা জানান বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। তিনি বলেন, ‘বার্তা ছিল কঠোর পরিশ্রম করে যাওয়া এবং এটা মনে রাখা ও বোঝা যে আমরা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। কোটি কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছি, যারা সবাই আমাদের সাফল্যের দিকে তাকিয়ে আছে। আমার মনে হয়, এটাই ছিল তাঁর মূল বার্তা।’
জিম্বাবুয়ের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আফগানিস্তানের ফলের ওপরও নির্ভর করছে ফাইনালে ওঠার সমীকরণ। এমন পরিস্থিতিতেও দলের মনোবল ভালো আছে বলে জানিয়েছেন সিমন্স।
বাংলাদেশের প্রধান কোচ বলেন, ‘মনোবল এখনো চাঙা আছে। আজ সকালে আমাদের খুব ভালো একটা মিটিং হয়েছে এবং আমরা নিজেদের ভালো-মন্দ দিকগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছি। এখন আমরা জানি, আমাদের কী করতে হবে। ব্যাপারটা এমন নয় যে আমরা খারাপ খেলছি, বরং আমরা খুবই ভালো খেলছি।’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারকে একটি খারাপ দিন হিসেবে দেখছেন সিমন্স। তাঁর বিশ্বাস, এই ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য দলের আছে। তিনি বলেন, ‘একটা দিন এমন গেছে, যখন কোনো কিছুই আমাদের পক্ষে আসেনি। তাই সেখান থেকে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়, তা আমাদের জানা আছে। সুতরাং আজ আমরা অনুশীলন করব এবং আগামী দু-এক দিনের মধ্যে নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করব, যেন পরবর্তী ম্যাচের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকতে পারি।’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বোলিং ও ব্যাটিং—দুই বিভাগেই ভালো শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি দল। শুরুতে মাত্র ২৪ রানে প্রতিপক্ষের ৩ উইকেট তুলে নিলেও পরে ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের দেড় শতাধিক রানের জুটিতে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ে ২৭১ রানের লক্ষ্য দেয়।
জবাবে ১ উইকেট হারিয়ে ৬৬ রান তুলে ভালো অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৭২ রানেই অলআউট হয়ে যায় তাওহিদ হৃদয়ের দল।
সিমন্সের মতে, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারাই হারের অন্যতম কারণ। বিশেষ করে শুরুতে তিনটি উইকেট পাওয়ার পর প্রতিপক্ষের ওপর চাপ আরও বাড়ানো উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।
কোচ বলেন, ‘আমরা সঠিক মুহূর্তে সঠিক চিন্তাভাবনার অভাব বোধ করেছি। পরিস্থিতি সঠিকভাবে অনুধাবনের ক্ষেত্রে খামতি ছিল। বিশেষ করে যখন আমরা তিনটি উইকেট পেলাম, তখন প্রতিপক্ষের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দ্রুত আরেকটি উইকেট তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত ছিল। যদিও ওরা সত্যি খুব ভালো ব্যাট করেছে।’
ব্যাটিংয়েও পরিস্থিতি বুঝে খেলার ঘাটতি ছিল বলে মনে করেন সিমন্স। তাঁর মতে, ভালো শুরুর পর উইকেটে টিকে থেকে পুরো ৫০ ওভার খেলার লক্ষ্য নেওয়া উচিত ছিল বাংলাদেশের।
তিনি বলেন, ‘আমরা যখন ব্যাটিংয়ে নামলাম, তখনো পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝার অভাব ছিল। ও রকম একটি দুর্দান্ত শুরুর পর আমাদের স্রেফ পুরো ৫০ ওভার খেলে যাওয়া নিশ্চিত করার দরকার ছিল, তাহলেই আমরা ম্যাচটা জিতে যেতাম। এগুলো ছোটখাটো কিছু বিষয় ছিল, কিন্তু এসব মিলিয়েই দিন শেষে ম্যাচ হারতে হয়।’
ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে বুধবার আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। আবুধাবিতে ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল সাড়ে পাঁচটায়।
